Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবাধে ঘুরছে কুকুর, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফ্লাইট

ডেস্ক রিপোর্ট | Published: Saturday, January 10, 2026
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবাধে ঘুরছে কুকুর, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফ্লাইট

কোলাজ: সংগৃহীত।

গত বছর দুই দফা উড়োজাহাজের সাথে কুকুরের সংঘর্ষের মতো দুর্ঘটনা ঘটার পরেও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে এখনও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে পথকুকুর। এতে ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কার্যকর সমাধান না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি কক্সবাজার বিমানবন্দরে একটি বিশেষ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ঐ মহড়ার জন্য একটি পরীক্ষামূলক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রানওয়েতে দুইটি কুকুরকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তবে তৎক্ষনাৎ কুকুরগুলোকে সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

গত বছরের ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট (বিএস ১৫৮) উড্ডয়নের সময় একটি কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ফ্লাইটে ৭০ জন যাত্রী ছিলেন। ধাক্কা অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গেই পাইলট উড্ডয়ন বাতিল করে উড়োজাহাজটি পার্কিংয়ে ফিরিয়ে নেন। পরে প্রকৌশলীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা শেষে যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি না পাওয়ায় সন্ধ্যা ৭টা ৩১ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। ঘটনার পর রানওয়ে থেকে মৃত কুকুরটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে ঐ বছরের আগস্টের ২ তারিখ এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের সময় একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। ঐ ফ্লাইটে ৭২ জন যাত্রী ছিলেন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে কুকুরের সাথে ধাক্কা লাগার পর যাত্রীরা কম্পন অনুভব করেন এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাইলট সাথে সাথেই উড়োজাহাজ চালানো থামিয়ে দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ হলে ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করে।

নভোএয়ারের কক্সবাজার স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সারওয়ার উল কাদের বলেন, রানওয়েতে পথকুকুরের উপস্থিতি মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়। এ নিয়ে বারবার আলোচনা করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করার কাজ চলছে। বেবিচক জানায়, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রয়েছে। চেয়ারম্যান পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীর ও নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মানের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে যাত্রী ও পর্যটকরা বলছেন, বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় কুকুর ঢুকে পড়া কর্তৃপক্ষের তদারকির ঘাটতিরই প্রমাণ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News