ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যে এভিয়েশন খাত শক্তিশালী করার উদ্যোগ: বিমানমন্ত্রী
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Sunday, September 13, 2026
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশে রূপান্তর করতে দেশের এভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি কনভেনশন হলে বণিক বার্তা আয়োজিত এভিয়েশন খাত বিষয়ক এক পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি বলেন, বিমানবন্দরগুলো দেশের প্রবেশদ্বার ও রাষ্ট্রীয় আয়নার মতো, তাই এগুলোর পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য একটি এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রায় ৪২ বছর পর সিভিল এভিয়েশন রুলস-১৯৮৪ সংশোধন করে নতুন রুলস-২০২৬ প্রণয়নের কাজ চলছে, যা ব্যবসা ও বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব করেই তৈরি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান বাড়াতে এবং বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তারাই এই খাতের মূল অংশীজন, তাই বিধিমালা তৈরিতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সুবিধার কথা বিবেচনা করে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিধানে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। জটিল যন্ত্রাংশ মেরামত ও ওভারহলের ক্ষেত্রে জটিলতা কমাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসার সময় তারা একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছিলেন, যেখানে যাত্রী হয়রানির ঘটনা ছিল সাধারণ চিত্র। এই হয়রানি কমানোকে সরকারের একটি অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেবার মান বাড়াতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অনেক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রমাগত অপতথ্য ছড়াচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে পূর্বের তুলনায় আরও বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে বলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং দায়িত্বশীল ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান খাতের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন এবং তারা খাতে বিদ্যমান সমস্যা ও তা সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।