মালদ্বীপের ফুভাহমুলাহ্ দ্বীপে কনস্যুলার ক্যাম্প করল বাংলাদেশ হাইকমিশন
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, September 14, 2026
ছবি: হাইকমিশন
প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন একটি বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্পের আয়োজন করেছে। গত ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর মালদ্বীপের রাজধানী মালে থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফুভাহমুলাহ্ দ্বীপে এই ক্যাম্প বসে।
হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল এই ক্যাম্প পরিচালনা করে। তিন দিনে প্রায় ১০০টি ই-পাসপোর্ট এবং ২৮টি বোয়েসেল (BMET) কার্ডের আবেদন জমা নেওয়া হয়।
সোমবার মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ফুভাহমুলাহ্ দ্বীপ মালে থেকে অনেক দূরে হওয়ায় সেখানকার প্রবাসীদের সাধারণত পাসপোর্ট বা অন্যান্য সেবার জন্য রাজধানীতে যেতে হয়। মালে থেকে ফুভাহমুলাহ্ যেতে উড়োজাহাজে প্রায় এক ঘণ্টা কুড়ি মিনিট সময় লাগে, আর যাওয়া-আসার ভাড়া গুনতে হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
দ্বীপে গিয়ে সরাসরি সেবা দেওয়ায় প্রবাসীদের এই ভাড়া, থাকা-খাওয়ার খরচ এবং কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে দীর্ঘ যাত্রার ঝামেলা থেকে রেহাই মিলেছে। স্বল্প আয়ের প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য এই উদ্যোগ সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা নিতে প্রবাসীদের যেন অযথা সময়, অর্থ ও কর্মঘণ্টা খরচ করে রাজধানী মালে আসতে না হয়, সেটাই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, সম্ভব হলে সেবাটা প্রবাসীদের কাছেই পৌঁছে দিতে চান তারা। প্রবাসীদের কল্যাণকে শুধু প্রশাসনিক নয়, একটি মানবিক দায়িত্ব হিসেবেও দেখেন বলে জানান তিনি।
ক্যাম্প থেকে সেবা নেওয়া প্রবাসীরা হাইকমিশনের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা ফুভাহমুলাহ্সহ মালদ্বীপের অন্যান্য দূরবর্তী দ্বীপেও ভবিষ্যতে নিয়মিত এমন কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপে ই-পাসপোর্ট, বোয়েসেল নিবন্ধনসহ অন্যান্য জরুরি কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ তারা অব্যাহত রাখবে। প্রবাসীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমিয়ে তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়াকে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসীবান্ধব নীতির একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে হাইকমিশন।
এই কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষ ও ফুভাহমুলাহ্ দ্বীপের স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।