মধ্যপ্রাচ্যে সীমিত ফ্লাইট চলাচল শুরু: সিএনএন
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, March 05, 2026
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে ধীরে ধীরে সীমিত আকারে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হলেও এখনও হাজারো যাত্রী বিভিন্ন দেশে আটকে আছেন। এর আগে কয়েকদিন ধরেই ঐ অঞ্চলে ফ্লাইট বাতিল করা হয়। আঞ্চলিক সংঘাত তীব্র হওয়ায় সৃষ্ট এই পরিস্থিতিতেও বুধবার ধীরে ধীরে কিছু এয়ারলাইন পরিষেবা চালু করে বলে জানায় মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএন।
চলতি মাসের ১ তারিখ থেকেই দুবাই, আবুধাবি ও দোহাসহ প্রধান উড়োজাহাজ চলাচল কেন্দ্রগুলোতে অধিকাংশ বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল করা শুরু হয়। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ট্রানজিট পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াতকারী লাখো যাত্রীর ভ্রমণ ব্যাহত হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এমনটাই সিএনএনের প্রতিবেদনে জানান সাংবাদিক কার্লা ক্রিপস, মার্নি হান্টার ও জেনিফার হ্যান্সলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এমিরেট্স এয়ারলাইন্স প্রথমে সব ফ্লাইট বাতিল করলেও সোমবার রাত থেকে সীমিত পরিসরে প্রবাসীদের দেশে ফেরানো ও কার্গো পরিবহন কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে এমিরেট্সের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয় যে ৭ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত দুবাই থেকে আসার ও দুবাইতে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত সকল ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজ সিএনএনকে জানায়, আবুধাবি থেকে আসার এবং আবুধাবিতে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট ৬ মার্চ সকাল ৬টা পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
অন্যদিকে কাতারের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় কাতার এয়ারওয়েজের নিয়মিত ফ্লাইট চলাচলও বন্ধ আছে। তবে বৃহস্পতিবার কাতার এয়ারওয়েজ জানায় যে তারা ওমানের মাস্কাট থেকে হিথ্রো, বার্লিন, কোপেনহেগেন, মাদ্রিদ, রোম, আমস্টারডাম এবং রিয়াদ থেকে ফ্রাঙ্কফুর্টে সীমিত ত্রাণ ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তাদের সহায়তায় পরিচালিত প্রথম চার্টার ফ্লাইট বুধবার যাত্রা শুরু করেছে এবং পুরো অঞ্চলে আরও কয়েকটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় তিন হাজার মার্কিন নাগরিক সহায়তার জন্য নিবন্ধন করেছেন।
ডেপুটি-স্পোকসপার্সন টমি পিগট বলেন, ২৪ ঘণ্টার কল সেন্টারে ১২০ জনেরও বেশি কর্মী ফোন কল গ্রহণ করছেন।
তিনি সিএনএনকে বলেন, “চার্টার ফ্লাইট, চার্টার বাস বা অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা পাওয়া গেলে আমরা সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করব। এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য কল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ রইলো।”
গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ইসরায়েল, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাহরাইন, মিশর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, পশ্চিম তীর ও গাজা, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন থেকেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে দ্রুত চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
কানাডা সরকারও তাদের নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, কানাডা সরকার তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে ব্যবস্থা করছে। ইসরায়েলে থাকা নাগরিকদের বাসে করে মিশরের সীমান্তে নেওয়া হচ্ছে এবং বৈরুত থেকে সীমিত সংখ্যক মানুষকে উড়োজাহাজে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ইসরায়েলের জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন এল আলের এথেন্স থেকে ছাড়া প্রথম উদ্ধার ফ্লাইটটি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সব যাত্রীকে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই উদ্ধার ফ্লাইটে স্থান দেওয়ার চেষ্টা করছে ঐ এয়ারলাইন।
জার্মান এয়ারলাইন লুফথানসা জানায়, তারা দুবাইয়ের ফ্লাইট ৬ মার্চ পর্যন্ত এবং তেল আবিব, বৈরুত, আম্মান, এরবিল, দাম্মাম ও তেহরানের ফ্লাইট ৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের বিভিন্ন বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোতেও হাজারো ক্রুজ যাত্রী আটকে আছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানভিত্তিক টিইউআই ক্রুজেস জানায় যে তারা কয়েক দিনের মধ্যে জার্মান যাত্রীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যেই ‘মেইন শিফ ৪’ জাহাজে থাকা ২১৮ জন যাত্রীকে নিয়ে এমিরেটসের এক বিশেষ ফ্লাইট দুবাই থেকে মিউনিখের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।