নিষিদ্ধ দেশগুলোতে ভ্রমণ করলেই ৩০ হাজার রিয়াল জরিমানা
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, April 02, 2026
কোলাজ: এভিয়েশন এক্সপ্রেস
সৌদি আরব নতুন বিধিমালার আওতায় ইরানসহ নিষিদ্ধ দেশগুলোতে ভ্রমণকারী নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল (প্রায় ৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা) জরিমানা এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
মিনিস্টার অব ইন্টেরিয়র প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সৌদ বিন নাইফ অননুমোদিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ঠেকাতে সংশোধিত এই নিয়ম অনুমোদন করেন। প্রথমবার অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার রিয়াল জরিমানা ও দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। অপরাধ পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে জরিমানা দ্বিগুণ হয়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিষিদ্ধ দেশের তালিকা নির্ধারণ করবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত হবে। আফগানিস্তান, ইরান, কাতার, সিরিয়া ও লিবিয়া তালিকায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও সরকারিভাবে নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাম এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে শাস্তি আরও বাড়তে পারে। তবে পারিবারিক কারণ, ৪৮ ঘণ্টার কম ট্রানজিট অবস্থান বা ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে কিছু সীমিত পরিস্থিতিতে শাস্তি কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
ট্রাভেল ডকুমেন্টের (পাসপোর্ট, ভিসা বা ট্রাভেল পারমিট) জন্য আবেদন করার সময় মিথ্যা তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার রিয়াল (প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা) জরিমানা এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। আরও গুরুতর অপরাধ, যেমন নথি জালিয়াতি, অপব্যবহার বা অন্যকে অবৈধভাবে ব্যবহার করতে সহায়তা করলে, সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল (প্রায় ৩৩ লাখ টাকা) জরিমানা ও ৫ বছর পর্যন্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এ ধরনের মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে।
বিদেশে অবস্থানরত সৌদি নাগরিকদের পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটে নিবন্ধন করতে হবে। পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দূতাবাস নতুন পাসপোর্ট বা প্রত্যাবর্তন নথি ইস্যু করবে।
অননুমোদিত বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ বা দেশত্যাগ করলেও নতুন বিধিমালার আওতায় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সৌদি সরকার জানায়, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই কঠোরতা এসেছে। যুদ্ধক্ষেত্র, বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সৌদি আরব সতর্ক অবস্থানে আছে।
সূত্র: গালফ নিউজ