মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে এশিয়ায় ফ্লাইট ভাড়া তুঙ্গে: সিএনএন
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, April 02, 2026
ফাইল ছবি
সিএনএন এ্যাঙ্কর ক্রিস্টি লু স্টাউট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের কারণে আকাশযাত্রায় যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত শর্টসে তিনি এ তথ্য জানান।
ক্রিস্টি উল্লেখ করেন, পূর্বে ক্যাথে প্যাসিফিকের সিডনি থেকে লন্ডন পর্যন্ত ইকোনমি ক্লাসের টিকিট ছিল ১ হাজার ৩৭০ মার্কিন ডলার। আর বর্তমান মূল্য দুই হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি। কোনো কোনো দিন ঐ এয়ারলাইনের একই রুটের ফ্লাইট টিকিটের দাম ৩,৫০০ মার্কিন ডলারও দেখা গেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার পর থেকেই জেট ফুয়েলের খরচ দুইগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে।
তিনি জানান, বৈশ্বিক এয়ারলাইন খাতে চলতি বছরে ৪ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের রেকর্ড লাভের পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। তবে এখন সেই পূর্বাভাস বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এয়ার নিউজিল্যান্ড থেকে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যারিয়ার তাদের ফ্লাইট সংখ্যা কমাতে শুরু করেছে। কোরিয়ান এয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা শুরু করেছে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হতে পারে।
চীন নিজস্ব জ্বালানি সুরক্ষার জন্য জেট ফুয়েল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। চীনা এয়ারলাইনগুলো মধ্যপ্রাচ্য অতিক্রম না করে রাশিয়ার আকাশপথ ব্যবহার করে ইউরোপে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালাচ্ছে।
তবে ক্রিস্টি জানান, এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন এবং চায়না সাউদার্নের মতো বড় এয়ারলাইনগুলো জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক মনোভাব প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান দ্য হংকং অ্যান্ড শাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এইচএসবিসি) অনুযায়ী, এই এয়ারলাইনগুলোর মোট পরিচালন খরচের ৩৫–৩৮ শতাংশই জ্বালানিতে খরচ হয়।
স্থানীয় চীনা এয়ারলাইন কালারফুল গুইঝো এয়ারলাইন্স জানায় যে তারা ৫ এপ্রিল থেকে অভ্যন্তরীন রুটে জ্বালানি সারচার্জ ৫ গুণ বাড়াবে।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি। কারণ এই অঞ্চল হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা তেলের উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এশিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত তথা সমগ্র বিশ্বে এভিয়েশন খাতেই প্রভাব পড়বে। আর এয়ারলাইনগুলো এই অতিরিক্ত খরচ যাত্রীদের উপরই চাপিয়ে দেবে।
সূত্র: সিএনএন