নতুন অধ্যাদেশে পাঁচ হাজারের বেশি ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধের আশঙ্কা
সিনিয়র প্রতিবেদক
| Published: Sunday, January 04, 2026
ছবি: ওহিদুজ্জামান টিটু।
দেশে সদ্য জারি করা ট্রাভেল এজেন্সী নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ
অধ্যাদেশ–২০২৬ বাতিল না করা হলে সারা দেশে পাঁচ হাজারের বেশি ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ
হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা। তারা অধ্যাদেশটিকে
ব্যবসাবিরোধী আখ্যা দিয়েছেন।
রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশন অব
ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর সাবেক সভাপতি মঞ্জুর মোর্শেদ মাহবুব এই
অধ্যাদেশের কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি এ অধ্যাদেশকে ‘কালো অধ্যাদেশ’ উল্লেখ করে বলেন, এটি পুরো ট্রাভেল
খাতের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, অধ্যাদেশটির গেজেট ১
জানুয়ারি প্রকাশিত হয়।
তিনি বলেন, অধ্যাদেশের ৪ নম্বর ধারার উপধারা (ঙ)-এর (খ) দফায় ট্রাভেল
এজেন্সিগুলোর মধ্যে আকাশযানের টিকিট কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে দেশে
নিবন্ধিত প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে মাত্র ৮০০টি ট্রাভেল এজেন্সি
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) সদস্য।
মঞ্জুর মোর্শেদ মাহবুব বলেন, বাকি প্রায় পাঁচ হাজার এজেন্সির
নিজস্বভাবে টিকিট ইস্যু করার সক্ষমতা নেই। অন্য এজেন্সি থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে না
পারলে তারা যাত্রীসেবা দিতে পারবে না। একই সঙ্গে লাইসেন্স নবায়নের জন্য
বাধ্যতামূলক বার্ষিক ৫০ লাখ টাকা বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করা তাদের পক্ষে
অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে আটাব মেম্বারস ওয়েলফেয়ার ইউনিটি অ্যালায়েন্সের
আহ্বায়ক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন টিপু অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর জন্য ১০ লাখ টাকা
ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার বিধানেরও সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার এজেন্সি আইএটিএ
সদস্যপদ পায়নি। ফলে নতুন এই শর্ত তাদের জন্য আরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
নেতারা একই ঠিকানায় ট্রাভেল এজেন্সি ও রিক্রুটিং এজেন্সি পরিচালনায়
প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, এতে বিদেশগামী কর্মীদের খরচ আরও
বেড়ে যাবে, কারণ অনেক প্রবাসী এই যৌথ সেবার ওপর নির্ভরশীল।
অধ্যাদেশের ৯ নম্বর ধারার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা
বলেন, এই ধারায় কোনো পূর্ব শুনানি ছাড়াই সরকারের পক্ষ থেকে নিবন্ধন সনদ স্থগিত
করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এমন ক্ষমতার প্রয়োগ করা
হলে হয়রানি এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হবে।
এ ছাড়া ১১ নম্বর ধারায় শাস্তির মাত্রা বাড়ানোর প্রস্তাবেরও সমালোচনা
করেন তারা। নতুন বিধানে কারাদণ্ড ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর এবং জরিমানা তিন লাখ
টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আটাব নেতারা আগের শাস্তি কাঠামো বহাল রাখার আহ্বান জানান। অন্যথায়
তারা মনে করেন যে পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সির মালিক, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের
জীবিকা চরম ঝুঁকিতে পড়বে।