Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

সাজেক ভ্যালি: পাহাড়, মেঘ ও মানুষের গল্প

ডেস্ক রিপোর্ট | Published: Thursday, January 29, 2026
সাজেক ভ্যালি: পাহাড়, মেঘ ও মানুষের গল্প

ছবি: সংগৃহীত

সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের এক অনন্য জনপদ। রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত এই ইউনিয়নটি ভৌগোলিক বিস্তৃতির কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিকভাবে সাজেক ছিল পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতি বিশেষ করে লুসাই জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, কৃষি ও সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র। ভারতের লুসাই পাহাড়ের নিকটবর্তী হওয়ায় এই অঞ্চলের সঙ্গে সীমান্ত-সংলগ্ন সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক ধারার গভীর সংযোগ রয়েছে। পর্যটন বিকাশ শুরু হয় মূলত যখন যোগাযোগ সহজ হয় এবং পাহাড়ি সৌন্দর্য দেশের ভ্রমণপিপাসুদের নজরে আসে।


ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য

উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ ফুট

অবস্থান: প্রশাসনিকভাবে রাঙামাটি; যাতায়াতে সুবিধাজনক রুট খাগড়াছড়িুদীঘিনালা

দূরত্ব: খাগড়াছড়ি থেকে ৭০ কিমি, দীঘিনালা থেকে ৪০ কিমি


কী দেখবেন

কংলাক পাহাড় ও কংলক পাড়া: সাজেকের সর্বশেষ গ্রাম; এখান থেকেই কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল ও ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়।


মেঘের ভ্যালি: সাদা তুলোর মতো মেঘ পাহাড়ে পাহাড়ে ভেসে বেড়ায়—সাজেকের স্বাক্ষর দৃশ্য।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: ভোরে হেলিপ্যাড থেকে সূর্যোদয়, বিকেলে উঁচু ভিউপয়েন্ট থেকে রঙিন সূর্যাস্ত।

তারাভরা রাত: আকাশ পরিষ্কার থাকলে মিল্কিওয়ে দেখা যায়।

ট্রেকিং: রুইলুই পাড়া থেকে ২ ঘণ্টার ট্রেকে কমলক/পিদাম তৈসা/সিকাম তৈসা ঝর্ণা।

ফেরার পথে: হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ, বনবিহার।


কখন যাবেন

সাজেক সারা বছরই মনোমুগ্ধকর। তবে জুলাই–নভেম্বর সময়ে মেঘের খেলা বেশি দেখা যায়—এ সময় ভ্রমণ সেরা।


যাতায়াত গাইড

ঢাকা → খাগড়াছড়ি: বিভিন্ন নন-এসি ও এসি বাসে রাতের যাত্রা সুবিধাজনক।

খাগড়াছড়ি → সাজেক: শাপলা চত্বর থেকে জীপ/চাঁদের গাড়ি সবচেয়ে নিরাপদ। দল হলে শেয়ার করলে খরচ কমে।

দীঘিনালা এসকোর্ট: নিরাপত্তার কারণে সেনাবাহিনীর এসকোর্টে যাত্রা বাধ্যতামূলক (সকাল ৯:৩০ ও বিকাল ২:৩০)। সময়মতো পৌঁছানো জরুরি।

বিকল্প রুট: চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার থেকেও সংযোগ রয়েছে।


কোথায় থাকবেন

সাজেক রিসোর্ট (সেনাবাহিনী পরিচালিত): মানসম্মত সেবা , মেঘপুঞ্জি, মেঘ মাচাং, জুমঘর ইকো রিসোর্ট: জনপ্রিয় ইকো-ফ্রেন্ডলি অপশন, আলো রিসোর্ট (রুইলুই পাড়া): বাজেট ফ্রেন্ডলি, আদিবাসী কটেজ: স্বল্প খরচে অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক থাকা

ছুটির দিনে মাসখানেক আগে বুকিং নিরাপদ।


খাবার ও স্থানীয় স্বাদ

রিসোর্টগুলোতে সাধারণ বাঙালি খাবারের পাশাপাশি স্থানীয় বিশেষত্ব ব্যাম্বো চিকেন পাওয়া যায়। তাজা ফল (পেঁপে, আনারস, কলা) সস্তা। চাইলে বারবিকিউয়ের ব্যবস্থাও করা যায়।


প্রয়োজনীয় টিপস

বিদ্যুৎ সীমিত—পাওয়ার ব্যাংক রাখুন

নেটওয়ার্ক: রবি/এয়ারটেল/টেলিটক তুলনামূলক ভালো

পাহাড়ি পথে জীপের ছাদে ভ্রমণে সতর্কতা

গাইড প্রয়োজন হয় না, তবে স্থানীয়দের সম্মান করুন

আদিবাসীদের ছবি তুলতে অনুমতি নিন

পরিচয়পত্রের কপি সঙ্গে রাখুন


কেন সাজেক আলাদা

একই দিনে রোদ, বৃষ্টি ও কুয়াশা—প্রকৃতির তিন রূপ দেখার সুযোগ। পাহাড়, মেঘ আর মানুষের সরল জীবনযাপন—সব মিলিয়ে সাজেক শুধু ভ্রমণ নয়, এক অভিজ্ঞতা।


Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News