শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: মার্কিন সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ মিশন
সিনিয়র প্রতিবেদক
| Published: Monday, April 27, 2026
জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে বলে রোববার জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে পরামর্শ করে যাচ্ছে।
নিহতরা হলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি।
বিবৃতিতে জানানো হয়, জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট স্থানীয় শেষকৃত্য কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর কাজ করছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ট্যাম্পা থেকে দুবাই হয়ে মরদেহ পরিবহনে বর্তমানে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাই বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে দূতাবাস মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে মন্ত্রণালয় জানায়।
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এই ঘটনায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত সক্রিয় থাকায় শেরিফ অফিস এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে ভবিষ্যতের সব পদক্ষেপ সরাসরি ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতা-
১৬ এপ্রিল, ২০২৬: দুই শিক্ষার্থীকে সর্বশেষ দেখা যায় — লিমনকে তাঁর ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থিত বাসস্থানে এবং এক ঘণ্টা পরে বৃষ্টিকে ইউএসএফের একটি বিজ্ঞান ভবনে।
১৭ এপ্রিল, ২০২৬: তাদের শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে একজন পারিবারিক বন্ধু তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান।
২৪ এপ্রিল, ২০২৬: লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আবুঘারবিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২৬ এপ্রিল, ২০২৬: পানিতে লিমনের সম্ভাব্য দেহাবশেষ পাওয়া যায়; বৃষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।