সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের স্পনসরশিপে শুরু অ্যাম্বাসি ফুটবল ফেস্ট
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Friday, January 23, 2026
ছবি: ওহিদুজ্জামান টিটু
সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের স্পনসরশিপে বিদেশি মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের অংশগ্রহণে ষষ্ঠ অ্যাম্বাসি ফুটবল ফেস্ট উদ্বোধন করা
হয়। দুইদিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে ৩৫টি দল অংশগ্রহণ করবে ৪৩টি ম্যাচে।
শুক্রবার রাজধানীর উত্তরা আর্মড পুলিশ
ব্যাটালিয়নের মাঠে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (পূর্ব ও
পশ্চিম) সচিব ড. মুঃ নজরুল ইসলাম ।
তিনি জানান, এবারের
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। প্রতিদলে ৭ জন করে খেলোয়াড়
নিয়ে ৩১টি বিদেশি মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভেন-এ-সাইড ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ
নিচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
তিনি বলেন, “আজ এত কূটনীতিক ও অংশগ্রহণকারীকে একত্রে দেখাটা আনন্দদায়ক। ইতালির
মাননীয় রাষ্ট্রদূত নিজে মাঠে খেলবেন, যা এই উৎসবের সত্যিকারের চেতনা প্রতিফলিত
করছে।”
টুর্নামেন্টে দলভিত্তিক
পর্বে ২৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই পর্ব শেষ হওয়ার পর নকআউট রাউন্ডে ১৬টি ফিক্সচার
ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই পর্বে হেরে গেলে কোনো দল আর খেলতে পারবে না। তাই একে বলা হয়
নকআউট রাউন্ড। প্রতিটি ম্যাচের বিজয়ী পরবর্তী রাউন্ডে যাবে, আর পরাজিত দল বিদায় নেবে।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সৌদি আরব তাদের খেতাব রক্ষার জন্য অংশ নিচ্ছে।
ব্রিটিশ দল এই টুর্নামেন্টে
জিতবে এমন আশা প্রকাশ করে ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার জেমস গোল্ডম্যান
বলেন, এই সাপ্তাহিক ছুটিতে ফুটবল ‘বাড়ি ফিরবে’।
পুলিশের অতিরিক্ত
মহাপরিদর্শক আলী হোসাইন ফকির কূটনীতিকদের স্বাগত জানান এবং অনুষ্ঠানটিকে দেশগুলোর
মধ্যে বন্ধুত্বের উদযাপন হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, “এই টুর্নামেন্ট
শুধু টুর্নামেন্ট নয়। বিশ্বজুড়ে কূটনীতিকদের মধ্যে বন্ধুত্বের উদযাপন করার জন্যই টুর্নামেন্ট
আয়োজিত হচ্ছে। আর এই আয়োজন শান্তি, ঐক্য এবং পারস্পরিক সম্মানের বার্তা বহন করে।”
বাংলাদেশ ফুটবল
ফেডারেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম সংঠনের প্রেসিডেন্ট সাবিদ আহমেদের শুভেচ্ছা
পৌঁছে দেন এবং ফুটবলকে কূটনৈতিক সেতু হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন,
“কূটনীতিক হিসেবে আপনারা বাংলাদেশের সঙ্গে আপনাদের দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
শক্তিশালী করার জন্য অক্লান্তভাবে কাজ করছেন। আশা করি ফুটবল কূটনীতি এই প্রচেষ্টারই
একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।”
সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের
কান্ট্রি ম্যানেজার সালমান আলালি বলেন, আমাদের এয়ারলাইন্স এই বার্ষিক উৎসবকে
সমর্থন করতে পেরে গর্বিত।
উপস্থিত অতিথিদের
মধ্যে ছিলেন ইতালির রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রো ডি মাসি এবং ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত
নিনা পি. ক্যানগলেট।
যুক্তরাষ্ট্র,
পাকিস্তান, বিশ্বব্যাংক এবং বিভিন্ন জাতিসংঘের সংস্থা থেকে অংশগ্রহণ করা খেলোয়াড়দেরকে
নিয়ে ৯টি দলে গঠন করা হয়। দ্রুতগতিতে ম্যাচ শেষ করার জন্য জন্য প্রতি ম্যাচে মাত্র
দুইবার ১০ মিনিটের বিরতি দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসাইন আগামীকালের সমাপনী অনুষ্ঠানে ট্রফি বিতরণ করবেন।
টুর্নামেন্ট পরিচালনা করছে গেইমপ্লে লিমিটেড।
বিশ্বব্যাংকের
কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুলায়ে সেক বলেন, “বহুপাক্ষিক সম্পর্কের এক চমৎকার প্রদর্শনী
এই আয়োজন।”
ক্রীড়া কূটনীতিকে
কেন্দ্র করে ফুটবল ম্যাচের মধ্যে দিয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, সংলাপ
এবং সদ্ভাব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে এই ফুটবল ফেস্ট।