থাইল্যান্ডে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ: বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Thursday, August 13, 2026
ছবি: মন্ত্রণালয়
থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আলোচনার জন্য দেশটির একটি প্রতিনিধি দল বুধবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হকও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৪তম বার্ষিকী একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলতে থাইল্যান্ডের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
নৈতিক ও দায়িত্বশীল নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, নিয়োগের প্রাথমিক খরচ নিয়োগকর্তাকেই বহন করতে হবে, স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং কর্মীদের ন্যায্য মজুরি, আবাসন ও চিকিৎসা বীমার মতো সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক বলেন, থাইল্যান্ডের দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে এবং বাংলাদেশে জনশক্তির বিপুল সম্ভার আছে। তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে দক্ষ কর্মী নেয়ার জন্য থাই প্রতিনিধি দলকে অনুরোধ জানান।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ বলেন, থাইল্যান্ডে ব্লু কলার ও হোয়াইট কলার—উভয় ধরনের কাজের জন্যই উপযুক্ত কর্মী বাংলাদেশে আছে। সাংস্কৃতিক ও আবহাওয়াগত মিলের কারণে থাইল্যান্ড বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উপযোগী গন্তব্য বলে মন্তব্য করে তিনি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কম খরচে কর্মী প্রেরণ এবং কর্মীদের অধিকার নিশ্চিতে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন জানান, থাইল্যান্ড বর্তমানে চারটি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগের চুক্তিতে রয়েছে। তবে কম্বোডিয়ার সাথে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার জেরে নির্মাণ, হালাল খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও কৃষি খাতে কম্বোডীয় কর্মী নেয়া বন্ধ থাকায় সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে থাইল্যান্ড পঞ্চম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সাথে চুক্তির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে অবস্থান, তৃতীয় দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে থাইল্যান্ডকে ব্যবহার এবং মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী থাই প্রতিনিধি দলের প্রস্তাব স্বাগত জানিয়ে বলেন, উত্থাপিত উদ্বেগগুলোর সমাধান করে দ্রুতই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে বলে তিনি আশা করছেন।
বৈঠকে থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক এবং শ্রম বিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপন। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।