উড়োজাহাজে ব্যবহৃত পানি ছড়াতে পারে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ: ফক্স নিউজ
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, January 22, 2026
প্রতীকী ছবি: এভিয়েশন এক্সপ্রেস
ফক্স নিউজের
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উড়োজাহাজে ব্যবহৃত দূষিত পানি যাত্রীদের
স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, উড়োজাহাজের পানি দিয়ে হাত ধুলে
বা তা পান করলে যাত্রীরা ই.কোলাই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কবলে পড়তে পারেন।
ফক্স নিউজের ডিজিটাল
প্রোডাকশন সহকারী কেলি ম্যাকগ্রিলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত তিন বছরে ৩৫ হাজার
পানির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা গেছে, অনেক উড়োজাহাজের পানিতে ই.কোলাই
ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে, যা পেটব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি হওয়াসহ গুরুতর সংক্রামক
রোগ সৃষ্টি করতে পারে। শিশু, বৃদ্ধ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা যাত্রীদের ঝুঁকি
সবচেয়ে বেশি।
২০২২-২০২৫ সালের
মধ্যে ২১ এয়ারলাইন্সে মোট ৩২টি ই.কোলাই সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়েছে। এর মানে,
যাত্রীরা যেই পানি পান করে কিংবা যেই পানি দিয়ে টয়লেটে হাত ধোয়, সেই পানি তাদের শরীরে
তাদের অজান্তেই রোগের বীজ বুনতে সাহায্য করে।
গবেষক চার্লস
প্ল্যাটকিন ফক্স নিউজকে বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো পানির পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে
যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এগুলো বিলাসিতা নয়; বরং মৌলিক
প্রত্যাশা।”
প্রতিবেদনে বলা হয়,
স্পিরিট এয়ারলাইন্স, জেটব্লু এয়ারওয়েজ এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পানির নিরাপত্তা
মানের রেকর্ড সবচেয়ে খারাপ। ডেলটা এয়ারলাইনস এবং আলাসকা এয়ারলাইনসের পানি তুলনামূলকভাবে
নিরাপদ। তবে অনেক ব্যবসাসফল এয়ারলাইন্সের পানি থেকে যাত্রীদের দেহে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের
ঝুঁকি থেকেই যায়।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞ এবং
‘NutriSource Inc.’-এর প্রতিষ্ঠাতা নিকোলেট এম. পেস সতর্ক করে বলেন, সামান্য দূষিত
পানি থেকেই হজমে সমস্যা হতে পারে। এমনকি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
তিনি বলেন, “অল্প
মাত্রার দূষিত পানি পান করলেই যেমন হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে তেমন রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যায়।”
প্রতিবেদনে
যাত্রীদের উড়োজাহাজে সরবরাহ করা পানি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা যাচাই শেষ করে যাত্রীদের বোতলজাত সাথে নিয়ে যাওয়া উচিত। সাথে
খালি বোতল থাকলে বিমানবন্দরের রিফিল স্টেশন থেকে পানি নেওয়া যেতে পারে।
হাত ধোয়ার জন্য উড়োজাহাজে
সরবরাহ করা পানি ব্যবহার না করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ভালো। সংক্রমিত
পানি দিয়ে হাত ধুলে ই.কোলাই সরাসরি হাতের ওপর চলে আসে এবং খাবার খাওয়ার সময় মুখে
প্রবেশ করতে পারে। শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির
মাত্রা সবচেয়ে বেশি। বয়স্ক যাত্রীরাও বিপদে পড়তে পারেন। গর্ভবতী নারীদের উড়োজাহাজের
পানি এড়িয়ে চলা উচিৎ বলেই জানানো হয়।
ফক্স নিউজকে একাধিক ঝুঁকিপূর্ন
এয়ারলাইন্স প্রতিক্রিয়া জানায়। স্পিরিট এয়ারলাইন্স জানায়, তারা পরিবেশ সুরক্ষা
সংস্থার নিয়ম মেনে পানি পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। সম্প্রতি কোনো বড় ধরনের
সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে জানায় আমেরিকান এয়ারলাইন্স। ডেলটা এয়ারলাইনসের কাছে যাত্রীর
নিরাপত্তা ও মানই প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানানো হয়।
তবে প্ল্যাটকিন
বলেন, এয়ারলাইন্স যাচ্ছেতাই রিপোর্ট করে। অধিকাংশ তথ্য তাদের নিজেদের পরীক্ষার ফলাফল।
কোনোকিছুই স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয় না।
তাই তিনি সতর্ক করে
বলেন, “শুধু নিয়ম মেনে চললেই হবে না, ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকতে হবে।”
গবেষণায় দেখা গেছে, উড়োজাহাজে
পানি সরবরাহের ব্যবস্থা পরিষ্কার করা কঠিন। দীর্ঘদিন উড়োজাহাজ ব্যবহার না করা হলে পানির
পাইপে ও ট্যাংকে সহজেই ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে পারে। এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা
ও পরীক্ষা করা প্রয়োজন হলেও ফক্স নিউজ অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা খুঁজে পেয়েছে।
কফি, চা ও অন্যান্য
গরম পানীয়ও একই দূষিত পানি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। পানি ফুটালে কিছু ব্যাকটেরিয়া
ধ্বংস হয় ঠিকই, তবে বিপদ পুরোপুরি দূর হয় না। তাই শুধু উড়োজাহাজে শুধু বোতলজাত
পানীয় ব্যবহার করার পরামর্শই দেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, এই তথ্য বাংলাদেশীদের
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রা করার সতর্ক হতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। অনেকেই
মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ বা আমেরিকায় আকাশযাত্রা করে থাকেন। দীর্ঘ ফ্লাইটে বিভিন্ন
পানীয় পান করলে ও টয়লেটে পানি ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে
পারে।
সোর্স: ফক্স
নিউজ