ভারতের গোয়ায় নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুনে নিহত ২৫
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের গোয়ার একটি ক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৫-এ দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪ জন পর্যটক এবং ১৪ জন স্টাফ সদস্য বলে রোববার গোয়া পুলিশ নিশ্চিত করেছে। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা জানান, উত্তর গোয়ার ওই ক্লাবে রাত প্রায় ১২টার দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পর্যটকও ছিলেন।
গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ন্ত এক্স-এ লিখেছেন, “আজ গোয়ার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি দিন। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে।” তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কোনও অবহেলা বরদাশত করা হবে না।
সাওয়ন্ত সাংবাদিকদের জানান, মৃতদের মধ্যে “তিন থেকে চারজন পর্যটক” ছিলেন। তিনজন দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন, আর বাকিরা ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে প্রাণ হারিয়েছেন। আরব সাগরের তীরে অবস্থিত ভারতের পর্যটনস্বর্গ গোয়া প্রতি বছর লাখো পর্যটককে আকর্ষণ করে তার নাইটলাইফ, সমুদ্রসৈকত ও নিরিবিলি পরিবেশের কারণে। তবে দুর্বল অবকাঠামো, অতিরিক্ত ভিড় এবং নিরাপত্তা বিধি অমান্যের কারণে ভারতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাধারণ।
স্থানীয় গণমাধ্যম পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, একটি “সিলিন্ডার বিস্ফোরণ” থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত তদন্ত এখনো বাকি।
স্থানীয় আইনপ্রণেতা মাইকেল লোবো পিটিআইকে জানান, রাতভর দমকল ও পুলিশ উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে একই ধরনের স্থাপনার অগ্নি নিরাপত্তা নিরীক্ষা করা হবে। ভারতে সম্প্রতি একের পর এক বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটছে।
-
গত মে মাসে হায়দরাবাদের একটি ভবনে আগুনে মারা যায় কমপক্ষে ১৭ জন। তার আগের মাসে কলকাতার একটি হোটেলে আগুনে প্রাণ হারায় অন্তত ১৫ জন। গত বছর গুজরাটের একটি অ্যামিউজমেন্ট পার্কে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৪ জনের মৃত্যু হয়।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তা মান না থাকা এবং স্থাপনার ত্রুটির কারণে এসব ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়।
সূত্র: এএফপি/পিটিআই