Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

আকাশের নীরব প্রহরীদের দিন আজ

আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার দিবস

ডেস্ক রিপোর্ট | Published: Tuesday, October 20, 2026
আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার দিবস

ছবি: এআই


২০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার দিবস। ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা আকাশপথে উড়োজাহাজ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে যাঁরা কাজ করেন, বিশ্বজুড়ে আজ তাঁদের অবদান স্মরণ করা হচ্ছে।


এ বছর দিবসটি আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার সংগঠনগুলোর ফেডারেশন (আইফ্যাটকা) প্রতিষ্ঠার ৬৫তম বার্ষিকীর সঙ্গে মিলে গেছে। ১৯৬১ সালের ২০ অক্টোবর ১২টি সংগঠন নিয়ে ফেডারেশনটির যাত্রা শুরু হয়। এখন এর সদস্য সংগঠন ১৩০টিরও বেশি।


বাংলাদেশের তিন বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রা দিবসটি উপলক্ষে কন্ট্রোলারদের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে। আলাদা আলাদা বার্তায় তারা কন্ট্রোলারদের নিষ্ঠা, নিখুঁত কাজ ও সার্বক্ষণিক সতর্কতার প্রশংসা করেছে।


এয়ারলাইন্সগুলোর ভাষ্য, পর্দার আড়ালে নেওয়া কন্ট্রোলারদের সিদ্ধান্ত এবং দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করার প্রতিশ্রুতি নিরাপদ ফ্লাইট নিশ্চিত করতে এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার ও এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টারে কাজ করেন কন্ট্রোলাররা। তাঁরা উড়োজাহাজের চলাচল সমন্বয় করেন, এক উড়োজাহাজ থেকে আরেকটির নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখেন এবং ফ্লাইটের বিভিন্ন ধাপে পাইলটদের নির্দেশনা দেন।


এ কাজে দরকার একটানা মনোযোগ, সঠিক বিচারবুদ্ধি, স্পষ্ট যোগাযোগ এবং চটজলদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা। আবহাওয়ার পরিবর্তন, যন্ত্রপাতির সমস্যা কিংবা হঠাৎ ট্রাফিক জটিলতার মতো পরিস্থিতিতেও তাঁদের নিয়ম মেনে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। যাত্রীরা তাঁদের সাধারণত দেখেন না, তবু নিরাপদ ভ্রমণের অন্যতম ভিত্তি তাঁরাই।


অ্যাভিয়েশন এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজিটাল যোগাযোগ, নজরদারি ব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় সহায়ক সরঞ্জামের মতো আধুনিক প্রযুক্তি কন্ট্রোলারদের কাজ সহজ করছে। তবে প্রযুক্তি পেশাগত বিচারবুদ্ধির বিকল্প নয়, সহায়ক হওয়াই তার কাজ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ছে। তাই এসব ব্যবস্থার সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে কন্ট্রোলারদের স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।


এ বছরের জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) কন্ট্রোলারদের লাইসেন্সিং ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত নির্দেশনা হালনাগাদ করেছে। এতে প্রাথমিক প্রশিক্ষণের মানদণ্ড, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণের বিষয়টি রয়েছে।


পেশাটি এখনো চ্যালেঞ্জিং। ট্রাফিকের জটিলতা, জনবলের সক্ষমতা, ক্লান্তি ব্যবস্থাপনা ও নিরন্তর পেশাগত উন্নয়নের মতো বিষয়ে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও এয়ার নেভিগেশন সেবাদাতা সংস্থাগুলোর নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


কন্ট্রোলারদের প্রায়ই রাতে, সাপ্তাহিক ছুটিতে ও সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়। তাই কাজের চাপ ও ক্লান্তি সামলানো তাঁদের সুস্থতার পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ড্রোনের মতো নতুন প্রযুক্তির উড়োযান আকাশপথে যুক্ত হওয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে।


২০২৬ সালের দিবস উপলক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে আইফ্যাটকা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সব ব্যবস্থা, নীতি ও চর্চার কেন্দ্রে মানুষকে রাখার ওপর জোর দিয়েছে। প্রযুক্তি যত উন্নত হোক, নিরাপদ ফ্লাইট দক্ষ পেশাজীবী, দলগত কাজ, সঠিক পদ্ধতি ও শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতির ওপরও নির্ভর করে।


দিবসটি এয়ারলাইন্স, বিমানবন্দর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও এয়ার নেভিগেশন সেবাদাতাদের জন্য কন্ট্রোলারদের অবদান স্বীকার করার এবং তাঁদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা ভাবার সুযোগ।

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News