কেবিনে ত্রুটি, শাহজালালে নামল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Monday, October 19, 2026
-সংগৃহীত
রোগী নিয়ে আগরতলা থেকে কলকাতায় যাওয়ার পথে কেবিনের চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে একটি ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। রোববার দুপুরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে নামলেও পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশের বেসরকারি বিমান চলাচল কতৃপক্ষ (বেবিচক) এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেডিকেল ইভাকুয়েশন (মেডেভাক) মিশনে নিয়োজিত Beechcraft King Air C90A মডেলের উড়োজাহাজটির নিবন্ধন নম্বর VT-HYA।
ভারতীয় সময় দুপুর ১টা ৫ মিনিটে আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর থেকে এটি কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়। উড়োজাহাজে দুজন ক্রু, একজন রোগী, একজন চিকিৎসক ও একজন প্যারামেডিকসহ মোট সাতজন আরোহী ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১২ হাজার ফুট উচ্চতা পার হওয়ার সময় কেবিন প্রেসারাইজেশনে ত্রুটি দেখা দেয়। এতে উড়োজাহাজের প্রধান দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আংশিক খুলে যায়। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবতরণের আগেই শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি সাড়া দেওয়ার সব প্রস্তুতি নেয়। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী যান, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়। উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে নিরাপদে অবতরণ করে।
অবতরণের পর ক্রু ও অন্য আরোহীরা নিরাপদ ছিলেন। তবে রোগীকে দ্রুত কুর্মিটোলার মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ক্রু ও অন্য আরোহীদের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন ছিল না। তবে মানবিক বিবেচনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের সহায়তা দিয়েছে।
ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক ছাড়পত্র পেতেও সহযোগিতা করা হয়। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, সদস্য (পরিচালনা), সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এবং শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে সমন্বয় করেন।