Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

বাংলাদেশে নতুন পর্যটন কৌশলের রূপরেখা

জাতীয় পর্যটন নীতি, ৬৪ জেলা ম্যাপিং ও ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্টকে কেন্দ্র করে নতুন উন্নয়ন উদ্যোগ

Nazim Ankur | Published: Monday, August 17, 2026
বাংলাদেশে নতুন পর্যটন কৌশলের রূপরেখা

জাতীয় পর্যটন নীতি ২০২৬, দেশের ৬৪টি জেলায় সম্ভাবনাময় গন্তব্য চিহ্নিতকরণ এবং একটি ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ)—এই তিনটি উদ্যোগের সমন্বয়ে নতুন পর্যটন কৌশলের ভিত্তি তৈরি করছে বাংলাদেশ, যা সমন্বিত, তথ্যনির্ভর এবং ভৌগোলিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দিকে এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


ঢাকায় পৃথক পৃথক পর্যটন অনুষ্ঠানে উন্মোচিত এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে একটি ইকো-ট্যুরিজম নীতি, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পরিকল্পনা, কারণ সরকার বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।


নতুন জাতীয় নীতি


বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশীদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাস্তবসম্মত গন্তব্য উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে সরকার জাতীয় পর্যটন নীতি ২০২৬ প্রণয়ন করছে।


১৩ আগস্ট বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত বাকওয়াটার ট্যুরিজম বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি বলেন, “আমরা জাতীয় পর্যটন নীতি ২০২৬ প্রণয়ন করছি। পর্যটন গন্তব্যের উন্নয়নে আমরা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেব এবং তা বাস্তবায়ন করব।”


মিল্লাত জানান, সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করতে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে, পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও উৎসাহিত করা হবে।


সরকার বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রতি ছয় মাস অন্তর জাতীয় পর্যটন কাউন্সিলের বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনাও করছে।


মিল্লাত আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, অদূর ভবিষ্যতে জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।


পর্যটন ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে


আরেকটি সেমিনারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা দেশের ৬৪টি জেলাতেই সম্ভাবনাময় পর্যটন স্থান চিহ্নিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গন্তব্যগুলোর বাইরেও উন্নয়ন সম্প্রসারিত হবে।


তিনি বলেন, “আমরা ৬৪টি জেলাতেই সম্ভাবনাময় পর্যটন স্থান চিহ্নিত করা এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চাই।”


“এসডিজি ভিলেজ” উদ্যোগের আওতায় বেশ কিছু গ্রামকে ঘিরেও পর্যটন উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে রাঙামাটির মিটিংগাছড়ি, খুলনার পানখালী এবং দিনাজপুরের নাফানগর।


এই উদ্যোগ কমিউনিটি-ভিত্তিক থাকার ব্যবস্থা, স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্প, গাইডিং ও পরিবহন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা পর্যটনের সুফল গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে দেবে।


আফরোজা বলেন, বাংলাদেশকে একটি পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, তবে তা অর্জনের জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি খাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা।


সিদ্ধান্তের ভিত্তি হবে তথ্য-উপাত্ত


নীতি ও গন্তব্য উন্নয়নের পাশাপাশি, পর্যটনের অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার একটি ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছে।


বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, টিএসএ দীর্ঘদিনের তথ্য-ঘাটতি দূর করবে এবং নীতি ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের জন্য একটি মজবুত পরিসংখ্যানগত ভিত্তি তৈরি করবে।


সরকার একটি ইকো-ট্যুরিজম নীতিও প্রস্তুত করছে এবং চলতি বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করেছে।


নদীবিধৌত বাংলাদেশজুড়ে বাকওয়াটার ট্যুরিজমেও যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখছেন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. ছামীমুজ্জামান কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা উন্নয়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।


সব মিলিয়ে, এই উদ্যোগগুলো খণ্ডবিখণ্ড উন্নয়নের বদলে একটি সুসংহত জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে বাস্তবায়ন—নীতি, তথ্য-উপাত্ত ও চিহ্নিত গন্তব্যগুলোকে টেকসই পর্যটন পণ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত করা, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যটন মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।


Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News