ঢাকা রুটে অত্যাধুনিক এ৩২১নিও উড়োজাহাজ চালু করল থাই এয়ারওয়েজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Sunday, August 16, 2026
বাংলাদেশের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে ঢাকা-ব্যাংকক রুটে নতুন এয়ারবাস এ৩২১নিও উড়োজাহাজ চালু করেছে থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল (থাই)। গত ১৫ আগস্ট ঢাকা থেকে এই উড়োজাহাজের উদ্বোধনী ফ্লাইট ছেড়ে যায়, যার মধ্য দিয়ে সংস্থাটির গ্রীষ্মকালীন ২০২৬ আঞ্চলিক সময়সূচিতে যুক্ত হলো নতুন এই উড়োজাহাজ।
এ৩২১নিও উড়োজাহাজ যুক্ত করার এই উদ্যোগ থাই এয়ারওয়েজের বৃহত্তর বহর আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য স্বল্প ও মধ্যম দূরত্বের রুটে যাত্রীসেবার মান ও পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো। এইচএস-টিওএ নিবন্ধন নম্বরের এই উড়োজাহাজের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বোওনরুংসি’। আধুনিক ও প্রিমিয়াম ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দিতে থাই এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হতে যাওয়া মোট ৩২টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজের মধ্যে এটিই প্রথম।
নতুন এই উড়োজাহাজে রয়েছে দুই শ্রেণির আসন বিন্যাস, মোট আসনসংখ্যা ১৭৫টি। ন্যারো-বডি কাঠামোর মধ্যেই ‘ওয়াইডবডি’ ধাঁচের অভিজ্ঞতা দিতে এটি নকশা করা হয়েছে। রয়্যাল সিল্ক ক্লাসে রয়েছে ১৮০ ডিগ্রি হেলানো যায় এমন ১৬টি সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট বেড, যা ২-২ এবং ১-১ ‘থ্রোন সিট’ বিন্যাসে সাজানো, যাতে যাত্রীরা সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও স্বাচ্ছন্দ্য পান। এসব প্রিমিয়াম আসনের প্রস্থ ২০ ইঞ্চি এবং সামনে-পেছনে জায়গা (পিচ) ৪৫ ইঞ্চি। ইকোনমি শ্রেণিতে রয়েছে ১৫৯টি এরগোনমিক নকশার স্লিম-লাইন আসন, যার প্রস্থ ১৮ ইঞ্চি, পিচ ৩১ ইঞ্চি এবং সর্বোচ্চ ১১০ ডিগ্রি পর্যন্ত হেলানো যায়। ছয় দিকে সমন্বয়যোগ্য চামড়ার হেডরেস্ট যাত্রীদের বাড়তি আরাম দেবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিটি আসনে থাকা অত্যাধুনিক ৪কে টাচস্ক্রিন ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট (আইএফই) ব্যবস্থা যাত্রার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। রয়্যাল সিল্ক শ্রেণির যাত্রীরা পাবেন ১৭ দশমিক ৩ ইঞ্চি স্ক্রিন, আর ইকোনমি শ্রেণির যাত্রীদের জন্য থাকছে ১৩ দশমিক ৩ ইঞ্চি স্ক্রিন। দুটি স্ক্রিনেই রয়েছে ব্লুটুথ অডিও সংযোগ সুবিধা এবং এসইএস ওপেন অরবিটস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ। যাত্রীদের সুবিধার জন্য যুক্ত হয়েছে এয়ারস্পেস এক্সএল ওভারহেড বিন, যাতে আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি জিনিসপত্র রাখা যাবে—প্রতিটি বিনে চারটি করে কেবিন ব্যাগ ধরবে। এ ছাড়া রয়েছে পরিবর্তনযোগ্য মুড লাইটিং এবং ‘থাই কনটেম্পোরারি’ ধাঁচে অনুপ্রাণিত অভ্যন্তরীণ নকশা, যা পুরো যাত্রাজুড়ে যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করবে।
এ৩২১নিও উড়োজাহাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। উন্নত সিএফএম লিপ-১এ ইঞ্জিন দিয়ে চালিত এই উড়োজাহাজ আগের প্রজন্মের উড়োজাহাজের তুলনায় প্রতি আসনে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম জ্বালানি খরচ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও কম করে। পাশাপাশি এতে শব্দদূষণের মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কম, ফলে কেবিন থাকে অপেক্ষাকৃত শান্ত। উড়োজাহাজটি সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ টেকসই বিমান জ্বালানি (এসএএফ) ব্যবহারের জন্য সনদপ্রাপ্ত। উচ্চ দক্ষতায় পরিচালনার জন্য উড়োজাহাজটিতে বড় আকারের উইংটিপ শার্কলেটও ব্যবহার করা হয়েছে।
এ৩২১নিও নেটওয়ার্কে ঢাকা যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ ও মানসম্মত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আরও জোরালো করল থাই এয়ারওয়েজ। উল্লেখ্য, এ৩২১নিও উড়োজাহাজটি প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর রুটে, এরপর ধাপে ধাপে তা পৌঁছে যায় ফুকেট ও দিল্লির মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক গন্তব্যে। বাংলাদেশের বাজারে এই আধুনিক উড়োজাহাজ যুক্ত করার মধ্য দিয়ে বহর আধুনিকায়ন এবং বিশ্বজুড়ে যাত্রীদের সর্বোত্তম ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য অব্যাহত রাখল সংস্থাটি।