বন্ধ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই করবে সরকার
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, April 29, 2026
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন
মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, দেশে বন্ধ ও কম ব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা
যাচাই করতে সরকার বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার (ফিজিবিলিটি স্টাডি) উদ্যোগ নিয়েছে।
এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ আকাশপথে সংযোগ জোরদার এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য আনার লক্ষ্য
নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮
আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ
তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর, নেভিগেশন সেবা প্রদানকারী স্থাপনা, বাংলাদেশ
বিমান বাহিনীর ব্যবহৃত ঘাঁটি এবং পুরোনো স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন-অবতরণ (এসটিওএল) সুবিধাসহ
মোট ১৭টি বিমানবন্দর রয়েছে।
তিনি আরো জানান, তিনটি আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর—হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ঢাকা), শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
(চট্টগ্রাম) এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (সিলেট) আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয়
ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা করে। এছাড়া সৈয়দপুর, শাহ মখদুম (রাজশাহী), যশোর, বরিশাল ও কক্সবাজার
বিমানবন্দর শুধু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে।
পুরোনো অবকাঠামোর বিষয়ে তিনি
বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর,
কুমিল্লা ও পটুয়াখালী—এই ছয়টি এসটিওএল বিমানবন্দর বর্তমানে বন্ধ বা কম ব্যবহৃত
অবস্থায় রয়েছে। তবে, কুমিল্লা বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট না থাকলেও এটি বিদেশি উড়োজাহাজের
নেভিগেশন সেবা প্রদান করছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার
তেজগাঁও বিমানবন্দর যাত্রীসেবা প্রদান করে না এবং বর্তমানে এটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী
পরিচালনা করছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে
তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ উন্নয়নের মাধ্যমে
বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে ধাপে ধাপে আকাশপথে সংযুক্ত করে একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে
তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, জনচাহিদার প্রেক্ষিতে
স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন্ধ বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা
যাচাইয়ে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বগুড়া
বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-কে
দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন,
এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে, অর্থনৈতিক
কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য আসবে।