Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

পর্যটন খাতে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ-২০৪০ সালের মধ্যে বিশাল কর্মপরিকল্পনা

ডেস্ক রিপোর্ট | Published: Wednesday, April 29, 2026
পর্যটন খাতে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ-২০৪০ সালের মধ্যে বিশাল কর্মপরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

২০৪০ সালকে সামনে রেখে দেশের পর্যটন খাতে বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে ৫ কোটি ৫৭ লাখ পর্যটক আকর্ষণ এবং ২ কোটি ১৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।


বুধবার সংসদে জামালপুর-২ আসনের সদস্য এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু-এর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ থেকে ২০৪০ মেয়াদের জন্য একটি সমন্বিত ‘ট্যুরিজম মেগা প্ল্যান’ তৈরি করা হচ্ছে। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ থাকবে।


সরকার পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদের ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যটন নীতি হালনাগাদ করা হবে, যাতে খাতটি আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।


দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ১,৯৪৩ জন ট্যুর অপারেটর, ১,২১৫ জন গাইড, ১,৫২৭ জন স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা এবং ৩,০৮৫ জন পর্যটন স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (২০২১-২০৩০)’ বাস্তবায়ন করছে।


বর্তমানে দেশে পর্যটন খাতে প্রায় ৫১ লাখ ৯০ হাজার মানুষ কর্মরত। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ৭২ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।


টেকসই পর্যটনের অংশ হিসেবে কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ইকো-ট্যুরিজমে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।


সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে আনতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব, হস্তশিল্প ও জীবনধারা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে গ্রামীণ পর্যটন আরও বিকশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


বড় বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-এর মাধ্যমে কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং এলাকায় একটি বিশেষ পর্যটন জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন-এর মালিকানাধীন জমিতে পিপিপি ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সরকার মনে করছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাত দেশের অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News