বৈধ পথে কর্মী পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
ছবি: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার বৈধ পথে কর্মী পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে নিজের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বৈধ অভিবাসন নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা ও সাংবাদিকদের নিয়ে শিগগিরই একটি গোলটেবিল বৈঠক করা হবে।
তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকায় এ পর্যন্ত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি এজেন্সির অফিস সিলগালা করা হয়েছে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে আসে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর যে লক্ষ্য সরকার নিয়েছে, তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিপুল সংখ্যক কর্মী পাঠানো এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স দেওয়া ও নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।
একই সঙ্গে ইথিক্যাল মাইগ্রেশন, বৈধ অভিবাসনে উৎসাহ দেওয়া এবং উচ্চ খরচে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের কর্মীরা যাতে বৈধ পথে ইউরোপে যেতে পারেন, সে জন্য "ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ"সহ বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইইউ কাজ করবে। বাংলাদেশে 'ইউরোপিয়ান ট্রেইনিং ফাউন্ডেশন' চালু করা এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে ইইউর অব্যাহত সহযোগিতার কথাও তিনি আবার জানান।
এ ছাড়া বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইনে ট্রেড ইউনিয়ন বা সংগঠন গড়ার স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে সাধারণ শ্রম আইনের সামঞ্জস্য আনা, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন মাইকেল মিলার।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড ঠিক করা আছে। এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে দেখে প্রতিবেদন দিতে একাধিক পরিদর্শক কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ইতালির সঙ্গে চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত 'রেইজ (RAISE)' প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের প্রথম সচিব লরা কার্টানিয়া ল্লাচ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্ম সচিব দেবজিৎ সিংহ, যুগ্ম সচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।