কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, September 29, 2026
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার বিমানবন্দরে নির্মিত নতুন আন্তর্জাতিক মানের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে নতুন এই টার্মিনালে উড়োজাহাজ ওঠানামা শুরু হয়েছে।
পুরনো বিমানবন্দরের রানওয়ে ছোট এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকায় কক্সবাজারে সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারত না। এ পরিস্থিতি বদলাতে বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন টার্মিনাল সেই উদ্যোগেরই অংশ।
টার্মিনালের ছাদ ঝিনুক আকৃতির। ওপরের স্টিলের কাঠামোতে রয়েছে সমুদ্রের ঢেউয়ের নকশা। সাগরঘেঁষা বিমানবন্দরের সঙ্গে মিল রেখেই এই নকশা করা হয়েছে। টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, পুরনো টার্মিনালে প্রতিটি ফ্লাইটে যাত্রী হতো ৪০০ থেকে ৫০০, কখনো সাড়ে ৫০০ পর্যন্ত। ফলে ধারণক্ষমতার বাইরে টার্মিনালের ওপর বেশ চাপ তৈরি হতো। নতুন টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পরে হবে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন টার্মিনালে যাত্রীরা বড় পরিসরের জায়গা, পর্যাপ্ত কাউন্টার ও বসার সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনায় কোনো সমস্যা আছে কি না, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাও চিহ্নিত করা যাবে।
প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনালে রয়েছে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার, ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক ও দুটি আধুনিক ব্যাগেজ ক্লেইম বেল্ট। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে সাতটি স্ক্যানার, মেটাল ডিটেকশন ব্যবস্থা এবং হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের আলাদা সুবিধা। যাত্রী চলাচলের জন্য আছে চারটি এসকেলেটর ও ছয়টি লিফট। এ ছাড়া রয়েছে বোর্ডিং ব্রিজ ও আধুনিক লাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা। টার্মিনালটি নির্মাণে আনুমানিক ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
বেবিচক সূত্র জানায়, নতুন টার্মিনালে বছরে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা রাখা হয়েছে। বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন সরঞ্জামের টেস্টিং ও কমিশনিংও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
নতুন টার্মিনাল নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরাও। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশন) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, নতুন টার্মিনালে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, যা শুধু ইউএস-বাংলার জন্য নয়, সব এয়ারলাইন্সের জন্যই ইতিবাচক। এতে যাত্রীরা আগের চেয়ে ভালো সেবা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরও আধুনিকায়ন করা হলে এয়ারলাইন্স ও যাত্রী উভয়েরই উপকার হবে।
ঢাকা থেকে আসা যাত্রী রাকিব হাসান বলেন, আগে টার্মিনালে ভিড়ের কারণে অনেক সময় দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যেত না। নতুন টার্মিনাল অনেক বড় ও সুন্দর। যাত্রীদের চলাচল ও বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা আছে। এতে ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে তাঁর মনে হচ্ছে।
আরেক যাত্রী নাজমা আক্তার বলেন, নতুন টার্মিনালে ঢুকেই আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তি পেয়েছেন। চেক-ইন কাউন্টার, বসার জায়গাসহ অন্যান্য সুবিধা সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে কক্সবাজারের যাত্রীদের জন্য এটি আরও বড় সুবিধা হবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে বেবিচক জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষ দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।
কক্সবাজারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, যা বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত। তবে এই পর্যটন এলাকায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা এখনো খুব কম। পুরনো বিমানবন্দরের রানওয়ে ছোট হওয়ায় সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল করতে পারত না। ফলে বিদেশি পর্যটকদের আগে ঢাকায় থেকে পরে কক্সবাজারে আসতে হতো।
বেবিচক জানায়, বিমানবন্দরের পুরনো রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছিল ৬ হাজার ফুট। পরে আরও ৩ হাজার ফুট বাড়িয়ে তা ৯ হাজার ফুট করা হয়। বর্তমানে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৭০০ ফুট।
সূত্র: বাসস