চট্টগ্রাম-সিলেট থেকে তুরস্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর আহ্বান মন্ত্রীর
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Thursday, October 01, 2026
ছবি: মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর বিলাল বেলিউর্ট এবং টার্কিশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইসলাম গুরে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী রাষ্ট্রদূত ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, পর্যটন ও মানুষে মানুষে যোগাযোগের মতো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বর্তমানে টার্কিশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট চালায়। এ রুটে আরও তিনটি ফ্লাইট চালানোর বিষয়ে তুরস্কের আগ্রহকে স্বাগত জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বাড়তি ফ্লাইট চালানোর সুযোগ আরও বাড়বে।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের আন্তর্জাতিক যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা অনেক, বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আন্তর্জাতিক যাতায়াতের চাহিদা বেশি। এসব বিমানবন্দর থেকে বাড়তি ফ্লাইট চালু হলে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে।
পর্যটন খাতের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্পটের অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিচ্ছে সরকার। তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের প্রতি বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যটন উন্নয়ন ও হসপিটালিটি খাতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, ব্যবসা ও পর্যটন বাড়াতে ভিসা সহজ করা খুবই জরুরি। মানুষে মানুষে যোগাযোগ যত বাড়বে, দুই দেশের সম্পর্ক তত গভীর হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিসা সহজ করতে বাংলাদেশ ও তুরস্ক উভয়কেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বৈঠকে দুই পক্ষই বিমান চলাচল, পর্যটন, বিনিয়োগ ও মানুষে মানুষে যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
শেষে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে বিমান চলাচল ও পর্যটনে সহযোগিতা বাড়লে দুই দেশের মানুষই উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।