ঢাকা বিমানবন্দরে চার ফ্লাইটে অভিযান, স্বর্ণ-ওষুধসহ জব্দ ৪২ লাখ টাকার পণ্য
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Sunday, August 16, 2026
ছবি: সংগৃহীত
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার একদিনে চারটি ফ্লাইটের যাত্রীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এসব অভিযানে প্রায় ৪২ লাখ ৮৮ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের সি-শিফটের কর্মকর্তারা পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৩৩ গ্রাম স্বর্ণ, শর্তসাপেক্ষে আমদানিযোগ্য দুই হাজার ৫৮৯ পিস ওষুধ, ৫১ কার্টুন সিগারেট, ৩১ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম, ৭০৮ পিস নিষিদ্ধ সিরাম এবং ছয় লিটার বিদেশি মদ আটক করেন।
সবচেয়ে বড় অভিযানটি হয় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের ইউএল১৮৯ (কলম্বো-ঢাকা) ফ্লাইট ঘিরে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এক যাত্রীর ওপর আগে থেকেই নজরদারি শুরু করেছিলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। দুপুর ১২টার দিকে ফ্লাইটটি অবতরণের পর ইমিগ্রেশন ও ব্যাগেজ সংগ্রহ শেষে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় মো. পারভেজ নামের ওই যাত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিতে তাঁর ব্যবহৃত ট্রলির বিশেষভাবে তৈরি গোপন স্থানে লুকানো ১৩৩ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া লাগেজে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় মেলে দুই হাজার ৫৮৯ পিস ওষুধ, যেগুলো শর্তসাপেক্ষে আমদানিযোগ্য। ওই যাত্রী এসব ওষুধ আমদানির প্রয়োজনীয় বৈধ অনুমতিপত্র ও সংশ্লিষ্ট দলিলাদি দেখাতে ব্যর্থ হন। ফলে স্বর্ণ ও ওষুধসহ সংশ্লিষ্ট পণ্য জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা।
আরেকটি পৃথক অভিযানে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই২৩৭ ফ্লাইটে আসা যাত্রী জনি মিয়ার ব্যাগেজ তল্লাশি করে ছয় লিটার গ্রান্টস ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা।
এমিরেটসের ইকে০৫৮৬ ফ্লাইটে আসা যাত্রী মো. মিজানুর রহমানের লাগেজ তল্লাশি করে ২৯ কার্টুন সিগারেট ও ৭০৮ পিস পাকিস্তানি হোয়াইটেনিং সিরাম জব্দ করা হয়। এই পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য চার লাখ ৪৯ হাজার ১০০ টাকা।
আরেকটি অভিযানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস৩১৬ ফ্লাইটে আসা যাত্রী সুমা বেগমের ব্যাগেজ তল্লাশি করে আমদানি নিষিদ্ধ ৩০ কেজি গৌরি ক্রিম জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ছয় লাখ টাকা।
এনবিআর জানিয়েছে, গোপন তথ্য, যাত্রী প্রোফাইলিং এবং নিবিড় নজরদারির সমন্বয়ে একই দিনে একাধিক ফ্লাইটে পরিচালিত এসব অভিযান বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধে সিআইআইডির সক্রিয় তৎপরতার প্রতিফলন।