টার্কিশ এয়ারলাইন্স অ্যাক্টিভপালস হাফ ম্যারাথনের দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন হলো ঢাকায়
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Friday, August 14, 2026
ছবি: ওহিদুজ্জামান টিটু
বাংলাদেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক দৌড় প্রতিযোগিতা টার্কিশ এয়ারলাইন্স অ্যাক্টিভপালস ইন্টারন্যাশনাল হাফ ম্যারাথন ২০২৬-এর দ্বিতীয় আসর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত জমকালো লঞ্চিং অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ক্রীড়াবিদ ও দৌড়বিদরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত হবে এবারের আয়োজন, যেখানে অংশ নেবেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার দৌড়বিদ। টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করছে টার্কিশ এয়ারলাইন্স। এবারের প্রতিপাদ্য "রান দ্য ওয়ার্ল্ড"-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েছেন আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে ২০২৬ আসরের পার্টনার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রথমবারের মতো উন্মোচন করা হয় অফিশিয়াল রেস টি-শার্ট ও ফিনিশার মেডেল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। বক্তব্যে তিনি সুস্থ ও কর্মক্ষম সমাজ গঠনে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যায়াম, হাঁটা ও দৌড়কে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ধরনের গণঅংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টার্কিশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ইসলাম গুরে এবং অ্যাক্টিভপালস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হাসান। তারা আয়োজনের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং দৌড় কীভাবে মানুষকে সুস্থ জীবনধারায় উৎসাহিত করতে পারে, সে বিষয়ে কথা বলেন।
বক্তব্যে ইসলাম গুরে টানা দ্বিতীয়বার অ্যাক্টিভপালস বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ক্রীড়া এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষ ও সংস্কৃতিকে একত্র করতে পারে। বাংলাদেশ ও তুরস্কের জনগণকে খেলাধুলার মাধ্যমে কাছাকাছি আনা এবং দেশের ক্রমবর্ধমান রানিং কমিউনিটির পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড আয়গাজ এলপিজি লিমিটেডের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ওসমান চেলিক, আইএইচজি সাউথ ওয়েস্ট এশিয়ার এরিয়া জেনারেল ম্যানেজার ও ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার অশ্বনী নায়ার, এবং সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক হাকান আলতিনিশিক। তারা উদ্যোগটির প্রতি নিজেদের সমর্থন ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, টার্কিশ এয়ারলাইন্স অ্যাক্টিভপালস ইন্টারন্যাশনাল হাফ ম্যারাথন ২০২৬ একটি এআইএমএস মেম্বার রেস। এর হাফ ম্যারাথন কোর্সটি এআইএমএস সনদপ্রাপ্ত এবং ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স কর্তৃক পরিমাপকৃত, যা ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের রেস স্ট্যান্ডার্ড নিশ্চিত করছে। দৌড়প্রেমীদের প্রিয় গন্তব্য হাতিরঝিল এবারও দেশি-বিদেশি দৌড়বিদদের স্বাগত জানাবে।
আনুষ্ঠানিক লঞ্চিংয়ের আগেই দুই হাজারের বেশি দৌড়বিদ নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা, যা এবারের আয়োজন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহের প্রতিফলন। প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রতিযোগী চারটি ক্যাটাগরিতে অংশ নেবেন— ২১.০৯৫ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন, ১৪.৬৪৫ কিলোমিটার চ্যালেঞ্জ রান, ৭.৩২১ কিলোমিটার এফএনএফ রান এবং ১.৫ কিলোমিটার ফান রান। প্রতিযোগিতামূলক ক্যাটাগরির যোগ্য অ্যামেচার অ্যাথলেটদের জন্য তিন লাখ টাকার বেশি প্রাইজ পুল ঘোষণা করেছেন আয়োজকরা, যেখানে নারী ও পুরুষ বিজয়ীদের জন্য থাকছে সমান অঙ্কের প্রাইজমানি। হাফ ম্যারাথনে এবার নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সীদের জন্য ভেটেরান ক্যাটাগরি, আর দেড় কিলোমিটার ফান রান রাখা হয়েছে অংশগ্রহণ ও আনন্দের উদযাপন হিসেবে, যেখানে প্রত্যেক সমাপ্তকারীই পাবেন স্বীকৃতি।
এবারের আয়োজনে কিট পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে টার্কিশ কার্গো, এনার্জি পার্টনার ইউনাইটেড আয়গাজ এলপিজি লিমিটেড, হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট, সাপোর্টিং পার্টনার এইচএসবিসি বাংলাদেশ এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্স পার্টনার সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড। এ ছাড়া হাইড্রেশন পার্টনার সাফা, ফুড পার্টনার টার্কিশ লাউঞ্জ অ্যান্ড এসপ্রেসো লিমিটেড, আইসক্রিম পার্টনার পোলার, হেলদি সুপ পার্টনার ম্যাগি হেলদি সুপ, হাইড্রেশন পাউডার পার্টনার ফুয়েল এবং কনটেন্ট পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে আপসাইট বাংলাদেশ।
আয়োজকদের ভাষ্যে, পদক বা জয়ের সীমার বাইরেও এই আয়োজনের লক্ষ্য মানুষকে সক্রিয় জীবনধারায় উৎসাহিত করা এবং একটি সুস্থ, সচেতন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। গত বছরের সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবারের আসর আরও বড় পরিসরে এবং আরও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
গ্র্যান্ড লঞ্চিং সম্পন্ন হওয়া এবং অফিশিয়াল রেস টি-শার্ট ও ফিনিশার মেডেল উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এখন পুরোদমে চলছে মূল আয়োজনের প্রস্তুতি। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর হাজারো দৌড়বিদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে হাতিরঝিল।