এমিরেটসে প্রথম আমিরাতি নারী ক্যাপ্টেন হলেন হানান ও বাখিতা
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Saturday, June 06, 2026
ছবি: এমিরেটস
আরব আমিরাতের বিমান সংস্থা এমিরেটসে প্রথমবারের মতো দুজন আমিরাতি নারী পাইলট ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এই মাইলফলক অর্জন বিমান চলাচল খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
দুবাইভিত্তিক এই বিমান সংস্থা বৃহস্পতিবার জানায়, হানান মোহাম্মদ জাওয়াদ এবং বাখিতা আল মহেইরি চলতি বছর চতুর্থ স্ট্রাইপ পেয়েছেন এবং এমিরেটসে প্রথম আমিরাতি নারী ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। দুজনই বর্তমানে বোয়িং ৭৭৭ বহর পরিচালনা করছেন।
হানান ২০০৮ সালে এবং বাখিতা ২০১১ সালে এমিরেটসের ন্যাশনাল ক্যাডেট পাইলট প্রোগ্রামের (এনসিপিপি) মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। বছরের পর বছর ফার্স্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তারা এই কমান্ড পদে উন্নীত হলেন।
এমিরেটসের তথ্য অনুযায়ী, হানান তার কর্মজীবনে ৯ হাজার ২৫০ ঘণ্টারও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। ১৪ বছর বয়সে টেলিভিশনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম নারী পাইলটকে দেখে তার পাইলট হওয়ার স্বপ্ন জন্ম নেয়।
তিনি বলেন, "চতুর্থ স্ট্রাইপ পাওয়া একটি গর্বের মাইলফলক, তবে এটি গন্তব্য নয়। এটি কেবল শুরু।"
বাখিতা তার প্রশিক্ষণ ও পেশাদার বিকাশে পাওয়া পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আমিরাতি পাইলটদের কাছে এই অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দুই ক্যাপ্টেন ভবিষ্যৎ নারী বৈমানিকদের উদ্দেশে এক যৌথ বার্তায় বলেন, "আমাদের নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে নারীদের জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। এমিরেটস নারীদের সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও সুযোগ তৈরি করছে।"
এমিরেটসের ফ্লাইট অপারেশনস বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন হাসান আলহাম্মাদি বলেন, "হানান ও বাখিতার এই অর্জন বছরের পর বছরের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন। আমরা তাদের নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত।"
এমিরেটসের ন্যাশনাল ক্যাডেট পাইলট প্রোগ্রামটি ১৯৯৩ সালে আমিরাতি বাণিজ্যিক পাইলট তৈরির লক্ষ্যে সম্পূর্ণ অর্থায়নে চালু হয়। এমিরেটস ফ্লাইট ট্রেনিং অ্যাকাডেমির মাধ্যমে পরিচালিত এই কর্মসূচির স্নাতকরা এরই মধ্যে ক্যাপ্টেন, প্রশিক্ষক এবং বিমান চলাচল খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদোন্নতি উপসাগরীয় অঞ্চলে নারীদের বিমান চলাচল পেশায় যোগদানে নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।