মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চ্যালেঞ্জে বিমান খাত, রিওতে বসছে শীর্ষ সম্মেলন
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, June 04, 2026
চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈশ্বিক বিমান শিল্পের শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইনের প্রধান নির্বাহীরা শিল্পখাতের সবচেয়ে বড় সংকট নিয়ে আলোচনা করবেন।
কোভিড-১৯ মহামারির পর মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে বিমান খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, অনেক ফ্লাইটকে বিকল্প পথে চলতে হচ্ছে এবং যাত্রীভাড়া বাড়িয়ে অতিরিক্ত খরচ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
৬–৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ)-এর বার্ষিক সভা বিমান শিল্পের সবচেয়ে বড় সম্মেলন। এতে এয়ারলাইন, বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, সরবরাহকারী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শত শত শীর্ষ কর্মকর্তা অংশ নেবেন।
আইএটিএ বিশ্বের ৩৭০টিরও বেশি এয়ারলাইনের প্রতিনিধিত্ব করে, যা বৈশ্বিক বিমান যাত্রার প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিচালনা করে। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে সংস্থাটি চলতি বছরে বিমান শিল্পের সম্মিলিত মুনাফা রেকর্ড ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল।
তবে বিশ্লেষক ও নির্বাহীরা মনে করছেন, সম্মেলনে সেই পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হতে পারে। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে থাকবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় বিঘ্ন, বিমান সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিলম্ব এবং জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিল্পখাতের অগ্রগতি।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন এয়ারলাইন ইতোমধ্যে ভাড়া বৃদ্ধি, অলাভজনক রুট বন্ধ এবং নগদ অর্থ সংরক্ষণের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে, টেকসই বিমান জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও সীমিত সরবরাহের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণ অর্জনের আইএটিএ-এর লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠছে।
গত সপ্তাহে মুডিস রেটিংস বৈশ্বিক বিমান শিল্পের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’-এ নামিয়ে আনে। সংস্থাটি জানায়, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অস্থিরতা এ বছর বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন মুনাফাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে। মুডিসের মতে, ২০২৬ সালে মুনাফা ৩৫ শতাংশেরও বেশি কমে যেতে পারে, যদিও পরবর্তী বছরে কিছুটা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।
আইএটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, মহামারি-পরবর্তী পুনরুদ্ধার শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো গত এপ্রিল মাসে বৈশ্বিক যাত্রী পরিবহন কমেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনগুলোতে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া-র বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাম্পবেল উইলসন বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কিছু রুট পরিচালনা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, "প্রতিযোগিতামূলক চাপের পাশাপাশি দীর্ঘপথে উড়তে হওয়ার অতিরিক্ত খরচ এবং জ্বালানির বাড়তি ব্যয় যোগ হলে কিছু রুট আর অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক থাকে না।"