Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

ফুটবলে সম্প্রীতির বার্তা, মাঠে নামল ১৬ এয়ারলাইন্স

ফুটবলে সম্প্রীতির বার্তা, মাঠে নামল ১৬ এয়ারলাইন্স

ছবি: ওহিদুজ্জামান টিটু/এভিয়েশন এক্সপ্রেস

ঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ (এএফসি) ২০২৬। ‘ওয়ান স্কাই, ওয়ান ফিল্ড, ওয়ান চ্যাম্পিয়ন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই ফুটসাল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে দেশি-বিদেশি ১৬টি এয়ারলাইন্স। দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৪ জুলাই।


শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর গুলশান ইউথ ক্লাব টার্ফ মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা ও ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো।


এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) টুর্নামেন্টটির আয়োজন করেছে। এর টাইটেল স্পন্সর এনভয়-শেলটেক এভিয়েশন এবং পাওয়ার্ড বাই ভিআইপি মোটরস।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ফুটবলপ্রেমী। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে মানুষের যে আবেগ ও উন্মাদনা, তা বিশ্বজুড়েই পরিচিত। সেই ফুটবল ভালোবাসাকে ধারণ করেই এ ধরনের আয়োজন দেশের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


তিনি বলেন, একদিন বাংলাদেশের ফুটবলও এমন অবস্থানে পৌঁছাবে, যখন দেশের মানুষ নিজেদের জাতীয় দলকে নিয়েও একই রকম আবেগ ও উন্মাদনায় উদ্‌যাপন করবে। খেলাধুলার প্রসারে এমন উদ্যোগ আরও বাড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো বলেন, ব্রাজিলিয়ানদের কাছে ফুটবল শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি আনন্দেরও প্রতীক। জয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে খেলাটিকে উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়।


তিনি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে বলেন, ফুটবল শান্তি ও সম্প্রীতির খেলা। প্রিয় দলকে সমর্থন করুন, আনন্দ করুন, তবে সবকিছু যেন শান্তিপূর্ণ থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে শুধু মাঠে, মাঠের বাইরে নয়।


বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, ফুটবল বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্র করে। বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল—সব দেশের মানুষের মধ্যে এই খেলাটি বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের ফুটবল আরও এগিয়ে যাক এবং দেশের তরুণ খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে—সেই প্রত্যাশা তার। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, ফুটবল মানুষকে একত্র করে। এই টুর্নামেন্ট শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এভিয়েশন খাতের দেশি-বিদেশি অংশীদারদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।


তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার যে লক্ষ্য রয়েছে, তা বাস্তবায়নেও এ ধরনের পারস্পরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সবাই একসঙ্গে কাজ করবে—এটাই এই আয়োজনের মূল চেতনা।


প্রথমবারের মতো দেশে এমন আয়োজন নিয়ে  এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হয়েছে। এই খাতের সঙ্গে যুক্ত দেশি-বিদেশি পেশাজীবীদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের বাইরে পারস্পরিক পরিচিতি, সৌহার্দ্য ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার জন্য একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন ছিল। এয়ারলাইন্স ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ সেই প্রয়োজন পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর ও এটিজেএফবির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আদনান রহমান বলেন, এএফসি-২০২৬ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয় বরং এটি দেশের এভিয়েশন খাতের দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে সম্প্রীতি, নেটওয়ার্কিং ও সুসম্পর্ক জোরদারের একটি উদ্যোগ। আন্তর্জাতিক মানের আয়োজন উপহার দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই টুর্নামেন্টকে এভিয়েশন খাতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক ক্রীড়া আসরে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।


আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদিয়া, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যারাবিয়া, ইন্ডিগো, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া, থাই এয়ারওয়েজ, এয়ারএশিয়া, সিল্কওয়ে ওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাই দুবাই।


আর এই আয়োজনের কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ফার্স্টট্রিপ, ওয়ার্ক স্টেশন এবং প্লিয়াদিশ বাংলাদেশ লিমিটেড (পিবিএল)। স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ঢাকা এয়ারলাইন্স ক্লাব। একইসাথে হসপিটালিটি পার্টনার হিসবে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা-গুলশান, মিডিয়া পার্টনার এভিয়েশন এক্সপ্রেস, ইনজুরি ইন্স্যুরেন্স পার্টনার ওয়াদা ইনস্যুর, হাইড্রেশন পার্টনার ট্রাভেল পোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা সহযোগী ফেমাস স্পেশালাইজড হসপিটাল এবং ইভেন্ট সাপোর্ট পার্টনার হিসেবে ফেমাস ক্রিয়েশন টুর্নামেন্ট বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে।

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News