ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ প্রকল্পের দুই বছর পূর্ণ: নিশ্চিত হচ্ছে নিরাপদ অভিবাসন
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Friday, July 03, 2026
-কোলাজ ছবি
বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির নিয়মিত ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে পরিচালিত "সাপোর্টিং এ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উইথ বাংলাদেশ" প্রকল্পের অধীনে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ৬৯৮ জন কর্মী ইউরোপের শ্রমবাজারে, বিশেষত ইতালিতে যাওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে যোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত ৩ মিলিয়ন ইউরো বাজেটের এই প্রকল্প গতকাল সফলভাবে দ্বিতীয় বছর পূর্ণ করেছে। ২০২৪ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।
জুন ২০২৬-এর অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বীকৃত হয়ে মোট ৮টি ট্রেডে ইউরোপে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। কর্মীদের প্রেরণে ইতালীয় দূতাবাসের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং অনেকে বর্তমানে ইন্টারভিউর অপেক্ষায় আছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রকল্পটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং জনশক্তি রপ্তানি সংস্থা বোয়েসেল।
প্রশিক্ষণার্থীদের তথ্য ইতালিসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের চাহিদা অনুযায়ী 'ওভারসিস এম্প্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মে' কার্যকরভাবে সন্নিবেশ নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক বলেন, টেকসই ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে 'ওভারসিস এম্প্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম' আরো উন্নত করতে হবে। প্ল্যাটফর্মটির কার্যকারিতা ও সহজলভ্যতা বাড়াতে দ্রুত এটি মোবাইলে ব্যবহার উপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কর্মীদের ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে বিধায় ইতালির পাশাপাশি অন্যান্য ইউরোপীয় দেশেও তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প দেশের দক্ষ কর্মীদের বৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ যোগাবে।
সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের আগামী দিনের অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা শিক্ষা এবং ১০ দিনের প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (পিডিও) ম্যানুয়াল নিশ্চিতকরণ। এছাড়া আন্তর্জাতিক নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে সার্টিফাইড গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি সংযোগে একটি 'এমপ্লয়ার-ম্যাচিং পাইপলাইন' তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আইএলওর চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার লোটে কেইসার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।