ঘণ্টায় ৩ লাখ মানুষ খাচ্ছেন ফরিদপুরের ওরসে
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, January 12, 2026
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের আটরশির বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে চার
দিনব্যাপী ওরস উৎসব উপলক্ষে চলছে বিশাল পরিসরের রান্না ও খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম। শুক্রবার
থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩ লাখ মানুষকে খাবার পরিবেশন করা হয়।
ওরস উপলক্ষে ২৪ ঘন্টা ধরেই একসাথে জ্বলছে
প্রায় ৩ হাজার চুলা। এসব চুলায় ভাত, আলু-মাংসের তরকারি ও ডাল রান্না করা হচ্ছে। এ বিশাল
আয়োজনে প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক একযোগে কাজ করছেন। তারা বিপুলসংখ্যক ভক্তেদের নির্বিঘ্নে
খাবার সরবরাহ করে যাচ্ছেন।
শুক্রবার দুপুর থেকে রান্না শুরু হয়। আগামী
মঙ্গলবার পর্যন্ত এই রানা একটানা চলবে। মুসলিম ভক্তদের জন্য গরু, খাসি ও মুরগির মাংস
রান্না করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থাও
রাখা হয়েছে। তিনশোরও বেশি কর্মী খাবার রান্না করছেন। খাবার বিতরণে নিয়োজিত আছেন প্রায়
৭০০ জন।
বহুদিন ধরে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের রান্নার
কাজের সঙ্গে যুক্ত এক স্বেচ্ছাসেবক সংবাদমাধ্যমে বলেন, “১৯৮৯ সালে আমি এই দরবারের মুরিদ
হই। এরপর থেকে টানা ৩৫ বছর ধরে লঙ্গরখানায় সেবা দিয়ে আসছি। এখানে প্রায় ৩ হাজার চুলা
রয়েছে। রান্না করা খাবার পাত্রে করে আশপাশের গ্রামে ও তিনটি বড় মাঠে পাঠানো হয়। সেখানে
ভক্তদের খাবার পরিবেশন করা হয়।”
এক ভক্ত তার দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার
কথা জানিয়ে সংবাদমাধ্যমে বলেন, “আমি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলাম। আল্লাহর রহমতে এবং পীর
সাহেবের ওসিলায় আমি সুস্থ হয়েছি। আমার বড় ভাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন এমবিবিএস
চিকিৎসক। পীর সাহেবের নির্দেশে আমরা এখানে সেবা করতে এসেছি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষদের
অন্তত এক মুঠো খাবার দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য।”
চার দিনে প্রায় ২ কোটি মানুষ ওরসে অংশ নেবেন
বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদেশ থেকেও ভক্তরা সড়ক, রেল কিংবা নৌপথে আটরশিতে আসছেন। রান্নার
পর খাবার সারিবদ্ধভাবে নির্ধারিত স্থানে পাঠানো হয়। সেখানে ভক্তরা মাটির থালায় খাবার
গ্রহণ করেন। খাওয়া শেষে নিজেরাই থালা ধুয়ে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেন। বিপুল জনসমাগম
সত্ত্বেও খাবার বিতরণে কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
ওরসে আগত ভক্তদের থাকার জন্য কয়েক কিলোমিটার
জুড়ে অস্থায়ী তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। খাবার বিতরণের পাশাপাশি সবার জন্য রাত কাটানোর
ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত রয়েছেন প্রায়
১ লাখ নিরাপত্তাকর্মী। তারা ছয় ঘণ্টার শিফটে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ব
জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফের নিজস্ব দরবার সিকিউরিটি ফোর্স, ইয়ুথ সিকিউরিটি ফোর্স, গ্রিন
ফোর্স ও ভলান্টিয়ার ফোর্সের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। পার্কিং
এলাকা সহ আটরশি ছাড়িয়ে সদরপুর বিস্তীর্ণ এলাকা এই নিরাপত্তার আওতায় আছে।
শনিবার ফজরের নামাজের পর মিয়াজান মুজাদ্দিদের
তত্ত্বাবধানে ওরস শরিফের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিদিনই ফরজ নামাজ, কোরআন
তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, মোরাকাবা ও ওয়াজ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে
দেশবরেণ্য আলেমরা বয়ান দিচ্ছেন।
আগামীকাল আখেরি মোনাজাত করে ওরস শেষ করা হবে।
মোনাজাতে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনা করা হবে।