হেনলি পাসপোর্ট সূচকে যৌথভাবে ৯৭তম বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়া
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, July 22, 2026
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্টের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম, যা উত্তর কোরিয়ার সমান। গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ তিন ধাপ এগোলেও বিশ্বের দুর্বলতম পাসপোর্টগুলোর অন্যতম হিসেবেই রয়ে গেছে।
মঙ্গলবার লন্ডনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে একই র্যাঙ্কিংয়ে যৌথভাবে অবস্থান করছে উত্তর কোরিয়া। গত বছর এ র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম।
সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে ৩৫টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারেন। বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে মাত্র সাতটি দেশ—নেপাল, সোমালিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তান। তালিকার সর্বশেষ অবস্থানে থাকা আফগানিস্তানের পাসপোর্টধারীরা ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় যেতে পারেন মাত্র ২২টি দেশে।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) তথ্যভান্ডারের ভিত্তিতে ২২৭টি গন্তব্যে প্রবেশাধিকারের তথ্য বিশ্লেষণ করে ১৯৯টি পাসপোর্টের এই সূচক প্রস্তুত করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। বৈশ্বিক সূচকে দেশটির অবস্থান ৫২তম এবং এর নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন। ভারতের অবস্থান ৮১তম; দেশটির পাসপোর্টধারীরা ৫৫টি দেশে প্রবেশাধিকার পান। শ্রীলঙ্কা রয়েছে ৯৪তম স্থানে, যার নাগরিকরা ৩৯টি দেশে এ সুবিধা পান। বাংলাদেশের পর রয়েছে নেপাল (৯৮তম) ও পাকিস্তান (১০১তম)।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় টানা শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা ১৯২টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন। যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া; প্রতিটি দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৮টি দেশে একই সুবিধা পান। চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের, যা জানুয়ারির তুলনায় তিন ধাপ এগিয়েছে।
সূচকের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত বিশ্লেষণে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স জানায়, বর্তমানে বিশ্বের একটি গড় পাসপোর্ট দিয়ে ১০৮টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করা যায়, যেখানে ২০০৬ সালে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৮।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ক্রিশ্চিয়ান এইচ. কেলিন বলেন, “একটি পাসপোর্টের শক্তি একটি দেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম স্পষ্ট প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের স্বাধীনতা মূলত অন্য দেশগুলো আপনার দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে কতটা গুরুত্ব দেয়, তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।”
সূত্র: হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স