ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের সাবেক সিইও এবার এয়ার ইন্ডিয়ার হাল ধরছেন
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, August 06, 2026
এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন সিইও তেওয়োল্ডে গেব্রেমারিয়াম। ছবি: এয়ার ইন্ডিয়া
এয়ার ইন্ডিয়ার পরিচালনা পর্ষদ ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স গ্রুপের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তেওয়োল্ডে গেব্রেমারিয়ামকে প্রতিষ্ঠানটির নতুন চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। বুধবার এক ঘোষণায় এয়ারলাইন্সটি জানায়, তিনি বিদায়ী সিইও ক্যাম্পবেল উইলসনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
এয়ার ইন্ডিয়ার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদের একটি বিশেষ কমিটি বিশ্বজুড়ে প্রার্থীদের মধ্যে খোঁজ চালিয়ে শেষ পর্যন্ত গেব্রেমারিয়ামকে এই দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গেব্রেমারিয়াম এক দশকেরও বেশি সময় ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এয়ার ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি আফ্রিকার বৃহত্তম ও অন্যতম লাভজনক এয়ারলাইন্স গ্রুপে পরিণত হয়। এ সময় সংস্থাটির আয় চার গুণের বেশি বৃদ্ধি পায় এবং বহরের আকার প্রায় তিন গুণ সম্প্রসারিত হয়। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) এবং প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
টাটা সন্স ও এয়ার ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরন এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ক্যাম্পবেল উইলসনের নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, বহর আধুনিকায়ন এবং রূপান্তরের প্রাথমিক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন এয়ার ইন্ডিয়া প্রবৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করছে। বিশ্বের অন্যতম দক্ষ ও লাভজনক এয়ারলাইন্স গ্রুপ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা গেব্রেমারিয়ামকে এয়ার ইন্ডিয়ার পরবর্তী ধাপের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় গেব্রেমারিয়াম বলেন, এয়ার ইন্ডিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া তার জন্য "গভীর সম্মানের বিষয়"। তিনি চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ, কর্মীবাহিনী এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে পরিচালনাগত নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে, বিদায়ী সিইও ক্যাম্পবেল উইলসনের অবদানেরও প্রশংসা করেছে এয়ার ইন্ডিয়ার পরিচালনা পর্ষদ। বেসরকারিকরণের পর সংস্থাটির একীভূতকরণ প্রক্রিয়া তদারকি, বহর আধুনিকায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং নতুন করপোরেট গভর্ন্যান্স কাঠামো প্রতিষ্ঠায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়।
টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই নেতৃত্ব পরিবর্তন ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন সিইও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শিল্পসংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে বৈশ্বিক উড়োজাহাজ চলাচল খাতে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে কাজ করবেন।
নেতৃত্ব হস্তান্তর ও দায়িত্ব গ্রহণের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।