কম খরচে ক্যান্সারের বিশ্বমানের চিকিৎসা মিলছে চীনে, সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Saturday, June 20, 2026
ছবি: সংগৃহীত
ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে চীনের আধুনিক 'মিনিমালি ইনভেসিভ' বা নিরাপদ অস্ত্রোপচার চিকিৎসা পদ্ধতি।
প্রচলিত চিকিৎসায় রোগীরা যেখানে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকতে বাধ্য হন, চীনের এই উন্নত প্রযুক্তি সেখানে রোগীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রেখেই সুস্থ করে তুলছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ চায়না আপন মিডিয়া ক্লাব, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম এবং কুয়াংচৌ মডার্ন ক্যান্সার হাসপাতালের ঢাকা সার্ভিস সেন্টারের যৌথ আয়োজনে এক বিশেষ আলোচনা সভায় এসব তথ্য উঠে আসে।
বক্তারা জানান, এই পদ্ধতিতে শেষ পর্যায়ের ক্যান্সার রোগীদের আয়ুও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
কুয়াংচৌ মডার্ন ক্যান্সার হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. উ ওয়েই বলেন, চীনে এখন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মধ্য ও শেষ পর্যায়ের ক্যান্সার রোগীরা সফলভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরছেন।
তিনি জানান, মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতিতে রোগীর শরীরে ক্ষত ও ধকল দুটোই অত্যন্ত কম হয়, ফলে চিকিৎসার পরদিন থেকেই রোগী স্বাভাবিক চলাফেরায় সক্ষম হন।
চিকিৎসকরা জানান, এ পদ্ধতির কেন্দ্রে রয়েছে ইন্টারভেনশনাল থেরাপি। এতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ক্যাথিটার সরাসরি টিউমারের রক্তনালীতে পৌঁছে দিয়ে রক্তপ্রবাহ বন্ধ করা হয়, পুষ্টি না পেয়ে টিউমার ধীরে ধীরে মরে যায়।
এর পাশাপাশি তীব্র শীতল তাপে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার 'ক্রায়োঅ্যাবলেশন' এবং টিউমারের ভেতরে তেজস্ক্রিয় কণা স্থাপনের 'আয়োডিন-১২৫ পার্টিকেল ইমপ্লান্টেশন' প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়।
হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্য লাং বিন জানান, বাংলাদেশি রোগীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বা ঢাকার সার্ভিস সেন্টারে সরাসরি যোগাযোগ করে জানতে পারবেন তারা চীনে চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত কিনা।
ভাষার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক বাংলাদেশি দোভাষী নিয়োজিত রয়েছেন। দেশে ফেরার পরও রোগীরা চীনা চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিনামূল্যে নিয়মিত ফলো-আপ সেবা পাবেন।
হাসপাতাল কর্মকর্তারা আরও জানান, উন্নত অনেক দেশের তুলনায় চীনে বিশ্বমানের ক্যান্সার চিকিৎসা অনেক কম খরচে পাওয়া যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের রোগীরা যাতে কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে চীনের কঠোর নিয়ম ও শৃঙ্খলার কথা তুলে ধরেন তারা।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ-চায়না আপন মিডিয়া ক্লাবের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল শাহানশাহ রাসেল বলেন, চীনে বাংলাদেশি রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার এক দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে রোগীরা কীভাবে চীনে এই আধুনিক চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে ‘বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম’ কাজ করবে বলে জানান সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ।