লিবিয়ার মিসরাতা শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ হাবীব উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত প্রায় দুই শতাধিক প্রবাসী অংশ নেন। দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম)সহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
সভায় প্রবাসীরা তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও মতামত তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং জানান, লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কনস্যুলার ও কল্যাণমূলক সেবা নিশ্চিত করতে দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের নিজ নিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে।
সভায় আকামা (ভিসা) ও দুখুল সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, এসব সমস্যা সমাধানে দূতাবাস লিবিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং জরিমানা মওকুফসহ প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কিছু প্রবাসী হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে গিয়ে সমস্যার কথা জানালে রাষ্ট্রদূত বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণই নিরাপদ এবং দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ধরনের পথে গেলে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। তিনি সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক প্রবাসীদের প্রত্যাবাসনে দূতাবাসের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত নিবন্ধন ও প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ডিটেনশন সেন্টারে আটক প্রবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় রাষ্ট্রদূত স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত প্রত্যেক বাংলাদেশিই দেশের প্রতিনিধি।
সভায় অংশগ্রহণকারী প্রবাসীরা এ আয়োজনের জন্য দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় সভা অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন।