স্বচ্ছ নিয়োগ ও কম খরচে শ্রমবাজার—ঢাকা-কুয়ালালামপুরে নতুন সমঝোতা
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, April 09, 2026
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়া এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য ও প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শ্রম অভিবাসন খাতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়। বৈঠকে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফর করেন। সফরের অংশ হিসেবে তারা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে তাকে সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান আনোয়ার ইব্রাহিম।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, শোষণ বন্ধ করা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
যৌথ প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়, শ্রম অভিবাসনকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত করতে একটি আধুনিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে মধ্যস্থতাকারীর সংখ্যা কমানো, নিয়োগ ব্যয় হ্রাস এবং বিশ্বস্ত এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে একটি এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ‘নিয়োগকর্তাই ব্যয় বহন করবেন’ নীতি বাস্তবায়নের ফলে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এছাড়া মানব পাচার সংক্রান্ত চলমান ইস্যু, আইনি প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা এবং সময়মতো বিচার নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে শ্রমবাজারকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আলোচনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।