মালদ্বীপে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধ হওয়ার সুযোগ
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, January 12, 2026
ফাইল ছবি
অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের বৈধতা পাওয়ার জন্য
বিশেষ সুযোগ চালু করেছে মালদ্বীপ সরকার। নতুন এ গণ-বৈধকরণ কর্মসূচির আওতায়
জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে এপ্রিলের ২ তারিখের মধ্যে শ্রমিকরা তাদের অবস্থান ও
কর্মসংস্থানের বৈধতা নিতে পারবেন।
মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, যেসকল
বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নেই তাদের জন্যই তিন মাসব্যাপী এই উদ্যোগ
নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিরা তাদের কর্মস্থানের বৈধতা
নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মসূচিতে অংশ নিতে শ্রমিকদের কিছু শর্ত পূরণ
করতে হবে। আবেদনকারীদের বর্তমানে মালদ্বীপে অবস্থান করতে হবে। কোনো ধরনের
ব্ল্যাকলিস্টে থাকা যাবে না। আগের কর্মস্থল ছেড়ে দিয়ে ভিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠানে
চাকরির জন্য আবেদন করতে হবে। প্রত্যেক শ্রমিকের একবারই এই বৈধতা পাবেন।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া
শ্রমিকরাও এ কর্মসূচির আওতায় পড়েন। অর্থাৎ, যারা নিজ নিজ নিবন্ধিত কর্মস্থল ছেড়ে
গিয়ে ঐ দেশের অন্য কোথাও দিন কাটাচ্ছেন তারাও আবেদন করতে পারবেন।
বর্তমান নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে মালদ্বীপ
সরকারের এক্সপ্যাট সিস্টেম ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত
বিস্তারিত নির্দেশিকা শীঘ্রই মালদ্বীপের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও টেকনোলজি
মন্ত্রণালয় প্রকাশ করবে বলে জানায় বাংলাদেশ হাইকমিশন।
যেসকল শ্রমিক পূর্বে বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দিলেও বর্তমানে কোনো
নিয়োগকর্তার সঙ্গে সংযুক্ত নন, তারাও নির্ধারিত অনলাইন ফরম পূরণ করে এই কর্মসূচিতে
অংশ নিতে পারবেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের নির্ধারিত
সময়ের মধ্যেই এই সুযোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে
অবৈধ অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে
দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মালদ্বীপে বর্তমানে হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক
কর্মরত আছেন। যাদের বড় একটি অংশ পর্যটন, নির্মাণকাজ ও হোটেল-হসপিটালিটি খাতে
নিয়োজিত। অবৈধ শ্রমিকদের আনুষ্ঠানিক কর্মব্যবস্থার আওতায় আনা এবং তাদের আইনি
সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এ বৈধকরণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।