মিয়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো ফ্লাইট বিধ্বস্ত, নিহত ৫
অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে যায় উড়োজাহাজটি
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, September 07, 2026
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে ছাড়িয়ে একাধিক গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে অ্যামাজনের একটি কার্গো উড়োজাহাজ। রোববারের এই দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) বিবৃতি অনুযায়ী, বোয়িং ৭৬৭-৩০০ মডেলের এই কার্গো উড়োজাহাজটি প্রাইম এয়ার ফ্লাইট ৭৫৯৮ নামে পরিচালনা করছিল উত্তর ক্যারোলাইনাভিত্তিক কার্গো সংস্থা টোয়েন্টিওয়ান এয়ার।
উড়োজাহাজটি পুয়ের্তো রিকোর রাজধানী সান হুয়ানের লুইস মুনিওজ মারিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার দিকে মিয়ামিতে অবতরণের চেষ্টা করছিল।
মিয়ামি-ডেড কাউন্টির শেরিফ রোজি করডেরো-স্তুৎস জানান, উড়োজাহাজটি রানওয়ে ৩০ ছাড়িয়ে বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি খোলা মাঠে গিয়ে থামে, তার আগে পথে একাধিক গাড়িকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যায় মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউর ষাটটিরও বেশি ইউনিট।
মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউর প্রধান রায়েড জাদাল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ট্রমা সেন্টারে এবং বাকি দুইজনকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, উড়োজাহাজের ইঞ্জিন থেকে সৃষ্ট জটিল অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি জ্বালানি তেল বের হওয়া ঠেকাতেও কাজ করেন উদ্ধারকর্মীরা। ধাক্কা লাগা গাড়িগুলোতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে বিশেষ প্রযুক্তিগত দলও নামানো হয়।
দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অ্যামাজন এক বিবৃতিতে জানায়, মিয়ামি বিমানবন্দরে আজকের এই ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণহানির খবরে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে অ্যামাজন।
এই দুর্ঘটনার জেরে বিমানবন্দরে প্রায় তিন ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার-এর তথ্যমতে প্রায় ২৫০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে, আর এফএএ জানিয়েছে তারা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাবে।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে তৈরি এই উড়োজাহাজটি প্রথম দুই দশকের বেশি সময় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হিসেবে চলাচল করার পর ২০১৫ সালে কার্গো পরিবহনের উপযোগী করে রূপান্তরিত করা হয়।
সূত্র: এফএএ/অ্যামাজন/সিএনএন/এনবিসি/এবিসি/সিবিএস