পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করতে চান চসিক মেয়র
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Sunday, March 08, 2026
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। ছবি: উইকিমিডিয়া
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও পারকিসহ জেলার সব সমুদ্র সৈকতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পর্যটন উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে গঠিত ‘চট্টগ্রাম বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি’র সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে জনমুখী ও দর্শনার্থী বান্ধব করতে হলে প্রথমে সেখানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দায়িত্ব পালনের জন্য ১০ জন আনসার সদস্য নিয়োগ করা যেতে পারে। ইতোমধ্যে একাধিকবার ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সমুদ্র সৈকত এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছে, এবং তিনি নিজেও এসব অভিযানের তদারকি করেছেন।
তিনি বলেন, সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পিতভাবে দোকান স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। সেখানে প্রস্তাবিত ২৮০টি দোকান এমনভাবে নকশা করতে হবে, যাতে সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক দৃশ্য আড়াল না হয় এবং পর্যটকদের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীরা যাতে ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, সমুদ্র সৈকত ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, সিডিএ, টুরিস্ট পুলিশ, পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পতেঙ্গা সৈকতকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পতেঙ্গা সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, আধুনিক বিনোদন সুবিধা এবং মানসম্মত অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, এডিসি মো. কামরুজ্জামান, জেলা পরিষদের সিইও চৌধুরী রওশন ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাখাওয়াত জামিল সৈকত, সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মাজহারুল ইসলামসহ সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, টুরিস্ট পুলিশ, ক্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ। সূত্র: বাসস