রেস্তোরাঁ খাতের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি মালিক সমিতির
ছবি : সংগৃহীত
রেস্তোরাঁ ব্যবসার অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারের কাছে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। একই সঙ্গে ভ্যাট ও করহার কমানো, গ্যাস সংকট নিরসন এবং বিভিন্ন দপ্তরের হয়রানি বন্ধসহ ১১ দফা দাবি তুলে ধরেছে সংগঠনটি।
রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সমিতির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, একটি রেস্তোরাঁ চালু করতে বর্তমানে ১০ থেকে ১২ ধরনের সনদ ও অনুমোদন নিতে হয়। এসব অনুমতি পেতে দুই মাস থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এতে উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত খরচ ও নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অনুমোদন বা নবায়নের সময় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানির কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতেও সমন্বয়হীনতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইমরান হাসান আরও বলেন, কোভিড-পরবর্তী সময়েও রেস্তোরাঁ খাত পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর মধ্যে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যা ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ৫ শতাংশে নামানো হলেও সম্পূরক শুল্ক ও উৎস কর বহাল রয়েছে। তাই আগামী বাজেটে করব্যবস্থা আরও সহনীয় করার পাশাপাশি উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ খাতে “করপোরেট আগ্রাসন” বন্ধের দাবিও জানানো হয়। সমিতির নেতাদের ভাষ্য, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া বিস্তারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এ সময় সমিতির সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম এবং যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপু উপস্থিত ছিলেন।
সমিতির প্রধান দাবিগুলো:
- রেস্তোরাঁ ব্যবসার জন্য দ্রুত ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু।
- ভ্যাট ও করহার সহনীয় পর্যায়ে রাখা।
- এলপিজি ও গ্যাস সংকট সমাধান।
- অভিযানের নামে হয়রানি বন্ধ।
- বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি বন্ধসহ অভিযান পরিচালনায় ব্যবসায়ি প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্ত করা।
- রেস্তোরাঁ খাতে করপোরেট আগ্রাসন বন্ধ করা।
- ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম চালু।
- রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা।
- ট্রেড ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ।
- অদক্ষ শ্রমিকদের সরকারি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
- গরুর মাংস আমদানির অনুমতি প্রদান।