বিমানবন্দর এলাকা তদারকিতে রাজউক-সিএএবি যৌথ সেলের সুপারিশ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Monday, August 03, 2026
বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর চারপাশে অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ রোধে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) সমন্বয়ে একটি যৌথ সেল গঠনের সুপারিশ করেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কমিশন।
কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) আশপাশে ভূমি ব্যবহার ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে গুরুতর ব্যর্থতা রয়েছে। বিমান দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে মানবিক ভুল চিহ্নিত হলেও, বিমানবন্দরের ফ্লাইটপথের নিচে বা আশপাশে স্কুল, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ জনবহুল স্থাপনা গড়ে ওঠাকে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিমান নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও শাহজালাল বিমানবন্দরের আশপাশে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ঠেকাতে রাজউকের ব্যর্থতা নিয়ে।
কমিশনের সদস্য ও নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, “বিমানবন্দরটি চারদিক থেকে লোকালয়ে ঘিরে গেছে,” যা দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের ফল।
তদন্তে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোচ এলাকার বড় অংশ একসময় প্লাবনভূমি, কৃষিজমি ও পানি ধারণ এলাকার আওতায় ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এসব এলাকার ভূমি ব্যবহার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি রাজউক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরের আশপাশে উচ্চতার সীমা লঙ্ঘনকারী ৬৩০টি ভবনের বিষয়ে সিএএবি একাধিকবার রাজউককে জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় অবৈধ ভূমি ব্যবহার, পরিকল্পনা লঙ্ঘন এবং অনুমোদিত উচ্চতার বেশি ভবন নির্মাণে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে কমিশন।
পাশাপাশি, বিমানবন্দরের আশপাশে নির্মাণকাজ ও স্থাপনা নিয়মিত তদারকির জন্য রাজউক ও সিএএবির সমন্বয়ে একটি স্থায়ী যৌথ সেল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে বিমান নিরাপত্তা ও নগর পরিকল্পনার বিধি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় বিমান চলাচলের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়। এ সময় রানওয়ের অ্যাপ্রোচ এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ স্থাপনা থাকলে বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
এ কারণে বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও অনুরূপ স্থাপনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থানান্তরের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশন বলেছে, এই নীতি শুধু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য নয়, দেশের সব বিমানবন্দরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নির্মিত বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা অঞ্চল শুরু থেকেই অপরিকল্পিত নগরায়ণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
তদন্ত কমিশনের মতে, বাংলাদেশের দ্রুত সম্প্রসারণশীল বিমান খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ এখন বিমানবন্দরগুলোর চারপাশে অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ ঠেকিয়ে বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।