শেয়ারট্রিপকে বৈশ্বিক বাজারে দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Tuesday, July 14, 2026
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দেশীয় ট্রাভেল-টেক প্ল্যাটফর্ম শেয়ারট্রিপকে বৈশ্বিক ট্রাভেল ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলোর সম্প্রসারণে সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের আইসিটি বিভাগের আয়োজিত অনুষ্ঠান ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার একটি জাতীয় স্টার্টআপ নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। একই সঙ্গে বিদেশি বাজারে প্রবেশ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে সহায়তার জন্য দেশের বিদেশস্থ মিশনগুলোর মাধ্যমে কীভাবে কার্যকর সহযোগিতা দেওয়া যায়, সে বিষয়েও কাজ চলছে।
শেয়ারট্রিপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই কোম্পানিটাকে আমরা গ্লোবালি নিয়ে যেতে চাই। শেয়ারট্রিপ কষ্ট করেছে, এটা ডিজার্ভ করে।”
তিনি আরও বলেন, শেয়ারট্রিপকে সফলভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করা গেলে একই ধরনের সহায়তা দেশের আরও অনেক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যকে দেশের ক্রমবর্ধমান ট্রাভেল-টেক খাতের প্রতি সরকারের শক্তিশালী সমর্থনের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল সেবা খাতকে এগিয়ে নেওয়ার সরকারি পরিকল্পনারও প্রতিফলন এতে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসাদ বলেন, তিনি শেয়ারট্রিপকে প্রথমে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই অঞ্চলেই বাংলাদেশি ট্রাভেল-টেক কোম্পানিগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।
এর আগে শেয়ারট্রিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাদিয়া হক প্রতিষ্ঠানের যাত্রা, সাফল্য এবং বিশ্বমানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, "একটি স্টার্টআপের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু অর্থায়ন নয়; প্রয়োজন বোঝাপড়া, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা এবং এমন একটি ইকোসিস্টেম, যেখানে স্টার্টআপকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে দেখা হবে।"
সাদিয়া হক সরকারের কাছে একটি সমন্বিত জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান। পর্যটন খাতের উন্নয়নে তিনি দেশীয় অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে (ওটিএ) আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুরও প্রস্তাব দেন।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শেয়ারট্রিপ বর্তমানে দেশের বৃহত্তম দেশীয় ট্রাভেল-টেক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ২৭ লাখের বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীকে সেবা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নুসুক ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মের একটি। এর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে জাপানের শিল্পগোষ্ঠী মারুবেনি এবং সরকারের স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারট্রিপের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন দেশের ডিজিটাল ট্রাভেল খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, বিদেশি বাজারে প্রবেশে সরকারি সহায়তা ও নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি ট্রাভেল-টেক প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক পর্যটন ও এভিয়েশন বাজারে শক্তিশালী আঞ্চলিক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।