সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে হামলার পর দুবাই ও শারজাহগামী ফ্লাইট বাতিল
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, July 14, 2026
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিমান চলাচল মঙ্গলবার আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে দুবাই ও শারজাহগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ থেকে আবহাগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিট ও বিকেল ৪টা ৫ মিনিটের নির্ধারিত দুটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে, ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, আবহা থেকে দুবাই ও শারজাহগামী ফিরতি ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড৮১৫ ফ্লাইট, যা দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশে ছাড়ার কথা ছিল, এবং এফজেড৮১১ ফ্লাইট, যা বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে যাত্রা করার কথা ছিল।
এয়ার আরাবিয়ার ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, আবহা থেকে শারজাহগামী জি৯১৯৫ ফ্লাইটটিও বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইটটির মঙ্গলবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
আবহা থেকে অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এর মধ্যে সৌদিয়ার পাঁচটি ফ্লাইট রয়েছে—রিয়াদগামী তিনটি এবং জেদ্দাগামী দুটি। এছাড়া ফ্লাইঅ্যাডিল আবহা থেকে জেদ্দাগামী দুটি ফ্লাইট বাতিল করেছে, যেগুলোর নির্ধারিত ছাড়ার সময় ছিল দুপুর ১টা ৫ মিনিট ও বিকেল ৫টা ২৫ মিনিট।
হামলায় হতাহতের খবর নেই
সোমবার রাতে ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হুতিরা আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর বরাতে জানা গেছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে এবং বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ
কয়েক বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে এটি প্রথম বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক করে।
বৈঠকে জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি সতর্ক করে বলেন, ইয়েমেন ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য আরেকটি সংঘাতের চক্র সহ্য করার অবস্থায় নেই। তিনি সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গঠনমূলক সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: গালফ নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)