প্রবাসীদের জন্য হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করবে সরকার
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, July 14, 2026
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা আরও সহজ, সমন্বিত ও হয়রানিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার ৭১ বিধিতে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়ন, বিমানবন্দরে সেবা, ভিসা ও অন্যান্য সেবার সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সম্পৃক্ত। এসব সেবার বিদ্যমান সমস্যা সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি কাজ করবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বিদেশে কর্মরত বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্রধারী কোনো বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে মরদেহ দ্রুত দেশে আনা, বিমানবন্দরে গ্রহণ, স্বজনদের কাছে হস্তান্তর, দাফন সহায়তা এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে মরদেহ পরিবহন ও দাফন ব্যয় বাবদ তাৎক্ষণিক ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩১২ জন প্রবাসীর পরিবারের মধ্যে মোট ১৮ কোটি ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মরদেহ ও অসুস্থ প্রবাসীদের নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বহির্গমন ছাড়পত্র বা বোর্ডের সদস্যপদধারী প্রবাসীর পরিবারকে দুই মাসের মধ্যে ৩ লাখ টাকা এবং অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত ১৮১টি মেডিকেল সেন্টার নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ফি আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশগমন উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে বৈধ উপায়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের কম খরচে বৈধ চ্যানেলে বিদেশে পাঠাতে একটি কমিটি সার্বক্ষণিকভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বল্প ব্যয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
সূত্র-বাসস