সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Friday, May 15, 2026
ছবি: মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে যাওয়ার প্রবণতাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, সাগরপথে বিদেশে যাওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "যারা তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।" তিনি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত "ফ্রম রিটার্ন টু রাইজ: স্টোরিজ অব রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন" শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
নুরুল হক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের সহায়তায় বিদেশফেরত মানুষদের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাগুলো অনুপ্রেরণামূলক। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
অভিবাসীদের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নুরুল হক বলেন, "রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় ও আত্মসাৎ হয়ে যায়, অথচ অভিবাসীদের ঘামঝরা পরিশ্রমের অর্থই আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।" তাই বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনরেকত্রীকরণ ও পুনর্বাসনে সরকার টেকসই উদ্যোগ নিতে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি জানান।
রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহিতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নীতিগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে বায়রার সদস্যপদে শুধু সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে মানভিত্তিক গ্রেডিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের কল্যাণে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে চাহিদা বিশ্লেষণ করে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং ফেরত আসা অভিবাসীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ অত্যন্ত জরুরি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, বিদেশফেরত অনেক অভিবাসী ভাঙা স্বপ্ন ও গভীর মানসিক আঘাত নিয়ে দেশে ফেরেন। তাই তাদের জন্য মনোসামাজিক ও জীবিকা সহায়তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সেলর ইউরাতে স্মালস্কাইটে মেরভিল বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে নতুন সমাধান খুঁজে বের করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং বৈধ পথে বিদেশ যাওয়াকে উৎসাহিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ব্র্যাকের সহ-অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে পরিচালিত "ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্র্যান্টস (প্রত্যাশা-২)" প্রকল্পের সার্বিক অর্জন তুলে ধরা হয়। এছাড়া বিদেশফেরত সেলিনা বেগম ও সোহেল রানা তাদের পুনরেকত্রীকরণের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের পরিচালক সাফি রহমান খান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক লোকমান হোসেনসহ দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।