আইএটিএ-সংযুক্ত প্রতিবেদন
ট্রাভেল এজেন্টদের টিকিট বিক্রির পরিমাণ ১৩ কোটি টাকা ছাড়ালো
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, January 01, 2026
ইলাস্ট্রেশন: নাইমুর রহমান ইমন
২০২৫
সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে দেশের মাঝারি আকারের এভিয়েশনের বাজারে
ট্রাভেল এজেন্টদের টিকিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৬২৯ কোটি টাকায়। অংশগ্রহণকারী
এয়ারলাইনের সংখ্যা ৪৫টি। মুদ্রা মানের অস্থিরতা সত্ত্বেও এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়
৬.৬৬ শতাংশ।
দেশে
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) বিলিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্ল্যান (বিএসপি)
পদ্ধতির মাধ্যমে এই পরিমাণ অর্থের টিকিট বিক্রয় হয়। বাজার পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং থাকলেও
বার্ষিক হিসাবে এই খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৬.৬৬ শতাংশ।
সর্বশেষ
আইএটিএ-সংযুক্ত
ট্রাভেল এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন বিএসপি-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে
অংশগ্রহণকারী এয়ারলাইনের সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৫টি। আগের বছর ছিল ৪২টি। এই তথ্য এদেশের বাজারে
বিদেশী এয়ারলাইনগুলোর আগ্রহ বেড়ে যাওয়ারই ইঙ্গিত দেয়।
ঐ
বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যবর্তী সময়ে ডলার মূল্যে মোট টিকিট বিক্রয়ের
পরিমাণ ছিল ১১১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২৪ সালের একই সময়ে টিকিট বিক্রয়ের
পরিমাণ ছিল ১১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ডলার মূল্য মাত্র ০.০৪ শতাংশ কমে। তবে স্থানীয়
মুদ্রায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হয়। টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাব এতে স্পষ্টভাবেই বুঝা
যাচ্ছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক
অঞ্চলের মোট বিএসপি পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রির হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ২.৩৪ শতাংশ হারে
অর্থ উঠে আসে। মোট লেনদেনের হিসাবে এই অর্থের হার ২.৯৫ শতাংশ। আগের বছর মোট লেনদেন
হয় ৩৬ লাখ ৭০ হাজার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১.৫১ শতাংশ কম। এতে বোঝা যায় যে টিকিটের
গড় মূল্য বেড়েছে ঠিকই কিন্তু বুকিং কিছুটা কমেছে।
প্রতি
মাসে টিকিট বিক্রির বড় পরিমাণে ওঠা-নামা দেখা গেছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে বাজারে
করুণ চিত্র দেখা যায়। যার মধ্যে এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থা চোখে পড়ে। অর্থাৎ,
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ট্রাভেল এজেন্টরা যেসব আকাশ ভ্রমণের টিকিট বিক্রি করেছে তার
মোট অর্থের পরিমাণ ২০২৪ সালের এপ্রিলের তুলনায় মার্কিন ডলারে ২৬.৮% কমে যায় (বাংলাদেশি
টাকায় ১৮.৮১%)।
জুনের
পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে বাজার ঘুরে দাঁড়ায়।
আগস্ট ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী মাস। ওই মাসে ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের টিকিট বিক্রি হয়,
যা ২০২৪ সালের আগস্টের তুলনায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি। জুলাই, আগস্ট ও
সেপ্টেম্বরে ডলার মূল্যে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৩৫ শতাংশ, ৫৭ শতাংশ ও ৩৯.৫ শতাংশ।
বহির্গামী
বা আউটবাউন্ড অবকাশ ভ্রমণ, প্রবাসী যাত্রী এবং জমে থাকা চাহিদার কারণেই এই প্রবৃদ্ধি
হয়। অক্টোবর মাসেও বিক্রি সামান্য বাড়ে। এতে বোঝা যায় যে বছরের শেষ দিকে আকাশ
ভ্রমণের চাহিদা স্থিতিশীল হয়।
খাত
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভিসা জটিলতা, উড়োজাহাজের ভাড়ার উঠা-নামা, এয়ারলাইনের আসন
সক্ষমতা সমন্বয় এবং যাত্রীদের ভ্রমণ অভ্যাসের পরিবর্তন বাজারে অসম পারফরম্যান্সের
কারণ।
ইলেকট্রনিক
টিকিটিং বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে। মোট লেনদেনের ৮৭ শতাংশের বেশি ই-টিকিট। অর্থ
ফেরত দেওয়া ৮ শতাংশ হারে কমে গেছে। ৬ শতাংশ হারে যাত্রা বাতিল করাও কমে গেছে। বুঝা
যাচ্ছে, যাত্রীদের ট্রাভেল এজেন্টদের প্রতি আস্থা বেড়েছে।
বাংলাদেশ
এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থ নির্ভর বিএসপি বাজারগুলোর একটি। প্রায় ১০০
শতাংশ লেনদেনই নগদ অর্থে নিষ্পত্তি হয়, যা নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও স্থানীয় ট্রাভেল
ব্যবসার আর্থিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।
বিএসপি
হেড এন্টিটির সংখ্যা ১ হাজার ৪৪০। এটি আগের বছরের মতোই অপরিবর্তিত। দেশে আইএটিএ স্বীকৃত
ট্রাভেল এজেন্ট রয়েছে ১ হাজার ৪৪৪টি, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মোট বিএসপি
এজেন্টের ১৩.১৮ শতাংশ।
বিএস্পির
তথ্য সম্পর্কে অবগত এক শিল্প নির্বাহী বলেন, বাংলাদেশ মূলত চাহিদানির্ভর বাজার।
শ্রম, শিক্ষা এবং আত্মীয়-স্বজন দেখার জন্য আউটবাউন্ড যাত্রা শক্তিশালী।
তিনি
বলেন, “তবে এখন প্রবৃদ্ধি অনেকটাই নির্ভর করছে টিকিটের মূল্য, মুদ্রা মানের
অস্থিরতা এবং এয়ারলাইনের সক্ষমতা বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর।”
লেনদেনের
সংখ্যা সামান্য কমলেও স্থানীয় মুদ্রায় টিকিট বিক্রি বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, যাত্রীদের
জন্য আকাশ ভ্রমণের খরচ এখনও একটি বড় বিষয়। একই সঙ্গে এয়ারলাইন ও এজেন্টরা বাড়তি
ব্যয়ের চাপ সামলাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা
মনে করেন, বাজার খুব দ্রুত বাড়ছে না। বরং নিজের অবস্থান ধরে রাখছে। এয়ারলাইনগুলো
রুট পুনর্গঠন করছে। সরকার অবকাঠামো ও নীতিগত সংস্কারে মনোযোগ দিচ্ছে। এই
প্রেক্ষাপটে চলতি বছরে বাজারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।