তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা চেয়েছে সরকার: মিল্লাত
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, August 31, 2026
ছবি: ভিডিও স্ক্রিনশট
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের বাকি কাজ শেষ করে সেটি চালুর জন্য সরকার ৯০২ কোটি টাকা চেয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশীদুজ্জামান মিল্লাত।
রোববার সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদের (নোয়াখালী-৬) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকার তৃতীয় টার্মিনাল সম্পূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করলেও যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (এডিসি) সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ তখনও অসম্পূর্ণ ছিল।
তিনি জানান, প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার কোটি টাকা, যা কয়েক দফা সংশোধনের পর গিয়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়।
মিল্লাত বলেন, “আমরা যখন দায়িত্বে আসি, তখন দেখতে পাই টার্মিনালটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ২১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।”
তিনি বলেন, ভবনের উদ্বোধন হলেও তখনো প্রয়োজনীয় সমন্বিত সুযোগ-সুবিধাগুলো সম্পন্ন হয়নি।
“যন্ত্রপাতি এসে পৌঁছালেও সেগুলোর সংযোজন করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য এডিসি কাজও শেষ হয়নি,” বলেন তিনি।
প্রায় ২১০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ হিসেবে টার্মিনালটিকে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, এটি অব্যবহৃত রেখে দিলে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
“যেহেতু এটি ২১০ কোটি ডলার মূল্যের একটি সম্পদ, তাই এই সম্পদ রক্ষায় আমাদের দ্রুত এটি চালু করতে হবে,” তিনি বলেন।
মিল্লাত বলেন, বকেয়া পরিশোধ এবং টার্মিনাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকার অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করেছে।
“আমরা নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে হিসাব করে দেখেছি, বকেয়া পাওনা পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা লাগবে,” তিনি বলেন।
মন্ত্রী জানান, অনুমোদনের জন্য সরকার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাছে গেছে এবং বরাদ্দ ব্যবস্থার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, টার্মিনালটি চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা ও রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
“বর্তমানে আমরা প্রায় ১২ লাখ যাত্রী সামলাতে পারি। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে,” বলেন মিল্লাত।
তিনি আরও বলেন, টার্মিনাল থেকে বাড়তি রাজস্ব আয় প্রকল্পের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধে সহায়ক হবে।
মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার ইতিমধ্যে ঋণের কিস্তি বাবদ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।
“যত দ্রুত টার্মিনাল চালু করতে পারব, তত দ্রুত রাজস্ব আয় হবে, আর তত দ্রুত ঋণ পরিশোধ করতে পারব,” তিনি বলেন।
মিল্লাত সতর্ক করে বলেন, টার্মিনালটি সম্পন্ন করে চালু করতে ব্যর্থ হলে দেশের হাতে থেকে যাবে একটি ব্যয়বহুল কিন্তু অব্যবহৃত স্থাপনা।
“আমরা চাই না এটি আগের সরকারের আমলের মতো শুধু একটি ভবন হয়েই থেকে যাক। এটি জাতি, জনগণ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর,” বলেন তিনি।
সূত্র: বাসস