১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Sunday, August 23, 2026
ছবি: ওহিদুজ্জামান টিটু
আগামী ১৭–১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬-এর হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান (আইএইচজি)।
এ উপলক্ষে রোববার ঢাকার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও মেলার আয়োজকদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মেলায় অংশগ্রহণকারী বিদেশি অতিথিদের আবাসন ও আতিথেয়তা সেবা দেবে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রচার এবং পর্যটন খাতের অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতেও এ অংশীদারিত্ব ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
ছবি: ওহিদুজ্জামান টিটু
অনুষ্ঠানে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্তিক ভি কে এবং ডিরেক্টর অব সেলস মো. সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মেলার চেয়ারম্যান ও পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক মহিউদ্দিন হেলাল, ফেয়ার ডিরেক্টর বোরহান উদ্দিন, পরিচালক (বিপণন ও উন্নয়ন) সালাউদ্দিন অটন এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান ও অরুনিমা রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ ক্লাবের চেয়ারম্যান খবির উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্তিক ভি কে বলেন, একটি সমন্বিত পর্যটন মেলা শুধু পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক ও পেশাগত যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে না, বরং একটি দেশের পর্যটন সম্ভাবনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও সহযোগিতায় আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার অনুষ্ঠিত হবে।
মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এবারের মেলায় ৩০০টির বেশি স্টলে দেশি-বিদেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, জাতীয় পর্যটন সংস্থা, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার অংশগ্রহণ থাকবে।
মেলায় তিন দিনজুড়ে থাকবে বিটুবি নেটওয়ার্কিং, সেমিনার, গ্রুপ ডিসকাশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পর্যটনবিষয়ক আলোচনা ও র্যাফেল ড্র। আয়োজকদের মতে, দেশি-বিদেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মেলাটি ব্যবসায়িক যোগাযোগ, ভ্রমণ পরিকল্পনা, বিনোদন ও জ্ঞান বিনিময়ের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান ও পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, এবারের মেলাকে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের একটি বড় মিলনমেলা ও পর্যটন উৎসবে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলায় দেশি-বিদেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলো আসন্ন শীত মৌসুমের ভ্রমণ পরিকল্পনার জন্য বিভিন্ন হলিডে প্যাকেজ, ছাড় ও বিশেষ অফার নিয়ে অংশ নেবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে এবং ভ্রমণ প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে।
আয়োজকরা জানান, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার দীর্ঘদিন ধরে হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, জাতীয় পর্যটন সংস্থা, বিনিয়োগকারী, দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন উদ্যোক্তাদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে।
এবারের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও আন্তর্জাতিক বাজারমুখী করার পাশাপাশি দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোর প্রচার এবং বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।