Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

৭৪ বছর পর সাগরতলে মিলল প্যান অ্যামের বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ

ডেস্ক রিপোর্ট | Published: Wednesday, July 22, 2026
৭৪ বছর পর সাগরতলে মিলল প্যান অ্যামের বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ

ছবি: সিএনএন


পুয়ের্তো রিকোর উপকূলে ১৯৫২ সালে বিধ্বস্ত হওয়া প্যান অ্যাম উড়োজাহাজ "ক্লিপার এনডেভার"-এর ধ্বংসাবশেষ ৭৪ বছর পর আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে খুঁজে পাওয়া গেছে। ওই দুর্ঘটনায় ৫২ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছিলেন, আর এই ঘটনার পরই বিমান ভ্রমণে যাত্রীদের জন্য প্রি-ফ্লাইট নিরাপত্তা ব্রিফিং চালু হয়।


এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ও ডিসকভারি চ্যানেলের "এক্সপিডিশন আননোন" অনুষ্ঠান যৌথভাবে গত মাসে পুয়ের্তো রিকোর উত্তর উপকূলে সমুদ্রের প্রায় ২ হাজার ফুট গভীরে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পায়। ডিসকভারি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।


১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল ডগলাস ডিসি-৪ মডেলের এই উড়োজাহাজটি ৬৪ জন যাত্রী ও পাঁচ ক্রু নিয়ে পুয়ের্তো রিকো থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ওড়ার কিছুক্ষণ পরই সাগরে বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজের ডান দিকের দুটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় পাইলট জরুরি অবতরণ করাতে বাধ্য হন।


যাত্রীরা প্রাথমিক ধাক্কা থেকে বেঁচে গেলেও সে সময় যথাযথ নিরাপত্তা ব্রিফিং না থাকা, ভাষাগত জটিলতা ও সমন্বিত উদ্ধার পদ্ধতির অভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে উড়োজাহাজটি ডুবে যায়, আর ৫২ জন প্রাণ হারান। মাত্র ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।


হাই-রেজল্যুশন-Sonar ও একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন ব্যবহার করে গত ২ জুন অনুসন্ধানকারী দল ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে ছবিতে উড়োজাহাজের গায়ে প্যান আমেরিকানের চেনা লোগো স্পষ্ট দেখা যাওয়ায় শনাক্তকরণ নিশ্চিত হয়।


এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাস ম্যাথিউস বিবৃতিতে বলেন, "এই আবিষ্কারে আমরা সবাই স্তম্ভিত ও উদ্বেলিত, একই সঙ্গে এতদিন আগে সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি মনে করে বিনয়ীও বোধ করছি।"


"এক্সপিডিশন আননোন"-এর উপস্থাপক জশ গেটস বলেন, একটি গবেষণা জাহাজ, যাতে বিশ্বের অন্যতম উন্নত Sonar প্রযুক্তি ছিল, কাকতালীয়ভাবে তাদের অনুসন্ধান এলাকা দিয়েই যাচ্ছিল এবং সহায়তার জন্য রাজি হয়। তিনি বলেন, "প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে সমুদ্রতল স্ক্যান করে তারা ফিরে আসে, আর তখনই আমরা সেটি খুঁজে পাই।"


ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে "এক্সপিডিশন আননোন"। কারণ এই স্থানটিকে দুর্ঘটনায় নিহতদের সমাধিস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন এখন পুয়ের্তো রিকো সরকারের সঙ্গে মিলে জায়গাটির সুরক্ষা বাড়ানো এবং নিহতদের স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।


দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া বর্তমানে জীবিত দুজনের একজন এখন ১০২ বছর বয়সী এক নারী, যিনি সে সময় নার্স ছিলেন এবং উড়োজাহাজের দরজা খুলে যাত্রীদের বের হতে সাহায্য করেছিলেন। অন্যজন ছিলেন এক শিশু, যাকে পানির ওপর ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এবং উদ্ধারকারীরা তাকে বাঁচিয়ে তোলেন।


এই দুর্ঘটনার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল অ্যারোনটিক্স বোর্ড, যা বর্তমান ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) পূর্বসূরি সংস্থা, বিমান নিরাপত্তা বিধিমালায় সংশোধনের সুপারিশ করে। এর ফলেই যাত্রীদের লাইফ ভেস্ট, লাইফ রাফট ও জরুরি নির্গমনপথ ব্যবহারের নিয়ম সংক্রান্ত প্রি-ফ্লাইট ব্রিফিং চালু হয়।


গেটস বলেন, "আজ আপনি যতবার উড়োজাহাজে চড়েন, ততবারই আপনি নিরাপদ থাকেন, কারণ প্রায় পৌনে এক শতাব্দী আগে 'ক্লিপার এনডেভার' ও তার যাত্রীদের সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা থেকে শিক্ষা নেওয়া হয়েছে।"


সূত্র: সিএনএন/রেবেকা রিস


Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News