আকাশে আগুন লাগার পর প্যারাশুটে পুরো উড়োজাহাজ নিয়ে নিরাপদে নামলেন পাইলট
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, August 26, 2026
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সেরা আজুল এলাকায় আকাশে থাকা অবস্থায় একটি সিরাস এসআর২২ উড়োজাহাজে আগুন ধরে যায়। এ সময় পাইলট জরুরি অবস্থায় উড়োজাহাজের নিজস্ব প্যারাশুট সিস্টেম চালু করেন, যার মাধ্যমে গোটা উড়োজাহাজটিই আস্তে আস্তে মাটিতে নেমে আসে।
এই ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী পাইলট ধোঁয়া নিঃশ্বাসে টেনে ফেলার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবরটি জানিয়েছে avbrief.com।
উল্লেখ্য, সিরাস এসআর২২ উড়োজাহাজে সাধারণ প্যারাশুটের বদলে থাকে সিরাস এয়ারফ্রেম প্যারাশুট সিস্টেম বা ক্যাপস (CAPS) নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যেখানে পাইলট আলাদাভাবে লাফ দেন না, বরং একটি হ্যান্ডেল টেনে পুরো উড়োজাহাজের সঙ্গেই একটি বড় প্যারাশুট খুলে দেওয়া হয়। এতে উড়োজাহাজসহ পাইলট ধীরে ধীরে মাটিতে নেমে আসেন।
ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্যারাশুট খোলার পর গোটা উড়োজাহাজটি মিনিটে প্রায় ১৭০০ ফুট গতিতে ধীরে ধীরে নিচে নামছে, আর ইঞ্জিনের দিক থেকে বের হচ্ছে ধোঁয়া। মাটিতে নামার পরপরই উড়োজাহাজটি পুরোপুরি আগুনে পুড়ে যায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে পাইলট নিজে সময়মতো ভেতর থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি বেলো হরিজন্তের পাম্পুলা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে বম দেসপাচোর উদ্দেশে যাচ্ছিল। ফ্লাইট শুরুর প্রায় ১৪ মিনিটের মাথায় বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার পর পাইলট প্যারাশুট সিস্টেম চালু করেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের জন্য নির্ধারিত এসআর২২ পাইলট অপারেটিং হ্যান্ডবুকে আগুন লাগার পরিস্থিতিতে এই প্যারাশুট সিস্টেম ব্যবহারের সরাসরি কোনো নির্দেশনা নেই। তবে হ্যান্ডবুকে সাধারণভাবে বলা আছে, উড়োজাহাজ চালিয়ে যাওয়া বা স্বাভাবিকভাবে অবতরণের চেয়ে এই সিস্টেম ব্যবহার নিরাপদ মনে হলে পাইলট নিজের বিবেচনায় তা চালু করতে পারবেন।
পাইলটের এই সিদ্ধান্ত তার জীবন বাঁচিয়েছে, নাকি বিপদ আরও বাড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে ব্রাজিলের বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ। উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হওয়ায় এই ঘটনার তদন্তে যুক্ত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও (এফএএ)।
এ বিষয়ে সিরাস এয়ারক্রাফট, ব্রাজিলের বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা পাইলটের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: avbrief.com