আকাশপথে দুর্ঘটনা কমলেও বেড়েছে প্রাণহানি: আইকাও-এর নতুন প্রতিবেদন
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Saturday, July 25, 2026
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সগুলো ২০২৫ সালে রেকর্ডসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করেছে এবং বিমান দুর্ঘটনার সংখ্যাও কমেছে। তবে একই সময়ে একক একটি বড় দুর্ঘটনার কারণে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইকাও)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ নিরাপত্তা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মন্ট্রিয়লভিত্তিক সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে নির্ধারিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন যাত্রী তিন কোটি ৮০ লাখ ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। যাত্রী ও ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লেও মোট দুর্ঘটনা ২০২৪ সালের ৯৫টি থেকে কমে ২০২৫ সালে ৮৫টিতে নেমে এসেছে। একই সময়ে প্রতি ১০ লাখ ফ্লাইটে দুর্ঘটনার হার প্রায় ১৩ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৬ থেকে ২ দশমিক ২-এ দাঁড়িয়েছে।
প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে ১০টি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছিল, ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র চারটিতে—অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তবে এ ইতিবাচক প্রবণতার মধ্যেও মোট প্রাণহানি বেড়ে ২৯৬ থেকে ৩৮৭ জনে পৌঁছেছে। আইকাও জানিয়েছে, এর প্রধান কারণ একটি বড় দুর্ঘটনা, যাতে ২৬০ জন নিহত হন। সংস্থাটির মতে, সামগ্রিকভাবে বিমান নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এ ধরনের বিরল কিন্তু ব্যাপক প্রাণহানির দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করাই এখন বৈশ্বিক বিমান খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিবেদনে পাঁচ ধরনের উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দুর্ঘটার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—
-নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ভূপৃষ্ঠে বিধ্বস্ত হওয়া (Controlled Flight Into Terrain–CFIT),
-উড্ডয়নের সময় নিয়ন্ত্রণ হারানো (Loss of Control In-flight–LOC-I),
-আকাশে সংঘর্ষ (Mid-Air Collision–MAC),
-রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়া (Runway Excursion–RE) এবং
-রানওয়েতে অনুপ্রবেশ (Runway Incursion–RI)।
২০২৫ সালে সংঘটিত প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার অর্ধেকের বেশি এসব শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে উড্ডয়নের সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনাকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইকাও।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে রানওয়েতে অনুপ্রবেশজনিত কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ার সাতটি ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে একটি ছিল প্রাণঘাতী।
আইকাও আরও জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর বিমান নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থার মান ২০২৫ সালে কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে দক্ষ কারিগরি জনবলের সংকট, নিয়মিত পরিদর্শনের ঘাটতি এবং নিয়ন্ত্রক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এখনো অনেক দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
সূত্র: আইকাও।