অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসায় কড়াকড়ি, অভিবাসন কমাতে নতুন উদ্যোগ
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, September 17, 2026
অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে ব্যাপক সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেশিরভাগ বিদেশি শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার সময় সঙ্গী বা সন্তান সঙ্গে আনার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন দেশটির স্বরাষ্ট্র বিষয়কমন্ত্রী টনি বার্ক। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিসা নবায়নের জন্য শিক্ষার্থীদের এখন থেকে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার দিকে এগোতে হবে।
সম্প্রতি কট্টর ডানপন্থী ওয়ান নেশন পার্টি তিন বছরে সাময়িক অভিবাসীর সংখ্যা সাড়ে সাত লাখ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক জোরালো হয়ে উঠেছে। জনমত জরিপে দলটির সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে।
তবে সরকারের এই সংস্কার ওই রাজনৈতিক চাপের কারণে নেওয়া হয়েছে বলে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বার্ক। রয়টার্সকে তিনি বলেন, "এটা মনে করা একেবারেই ভুল যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হুট করে এই কাজ করা হয়েছে - বাস্তবে তা নয়।"
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানের মতো সহযোগী আবেদনকারীরা আর বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ভিসায় সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু শিক্ষার্থী এখনও সঙ্গী বা সন্তান আনার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গীরা কাজ করার অনুমতি পান, তবে অনুমোদিত কর্মঘণ্টা নির্ভর করে শিক্ষার্থীর কোর্সের ওপর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্কারের অংশ হিসেবে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে চাওয়া ব্যাকপ্যাকারদের জন্য চালু হচ্ছে লটারি পদ্ধতি। পাশাপাশি সব ভিজিটর ভিসায় যুক্ত হবে "নো ফার্দার স্টে" শর্ত, যার ফলে ভিসাধারীরা পার্টনার ভিসার মতো অন্য কোনো শ্রেণির ভিসার জন্য আবেদন করার সময় অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যেতে পারবেন না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক নিট অভিবাসন বর্তমানের প্রায় তিন লাখ থেকে কমে প্রায় দুই লাখ ২৫ হাজারে নামবে, যা মহামারির আগের পর্যায়ের কাছাকাছি।
২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষাখাত অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে ৫ হাজার ৩৬০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার (৩ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার) যোগ করেছে, যা দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম রপ্তানি খাত। এই অর্থনৈতিক অবদান সত্ত্বেও অভিবাসন কমাতে কেন্দ্র-বামপন্থী লেবার সরকারের প্রচেষ্টায় মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে রয়েছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরাই, জানিয়েছে রয়টার্স।
গত চার বছরে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলারে। একই সঙ্গে কঠোর করা হয়েছে ইংরেজি ভাষাগত যোগ্যতা এবং গ্র্যাজুয়েট ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম সঞ্চয়ের শর্তও, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রায় দুই বছরের কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ শেষে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের ঢল নামে, যার পেছনে মূল ভূমিকা রাখেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও সাময়িক শ্রমিকরা। তবে গত দুই বছর ধরে এই সংখ্যা কমছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরে নিট বৈদেশিক অভিবাসনের সংখ্যা ছিল তিন লাখ ছয় হাজার, যার অর্ধেকের বেশি ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী - যা ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ১৮ হাজার থেকে কম।